আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরের স্বস্তি বজায় রাখতে আইপিএস-এর জুড়ি নেই। তবে এই যন্ত্রটির আসল প্রাণ হলো এর ব্যাটারি, যা সঠিক যত্নের অভাবে খুব দ্রুত কার্যক্ষমতা হারাতে পারে। ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে এবং ঘন ঘন খরচ কমানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো এতে সময়মতো এবং নিয়ম মেনে পানি দেওয়া।
অনেকেই না বুঝে সাধারণ খাবার পানি ব্যবহার করেন কিংবা পানির সঠিক মাত্রা খেয়াল রাখেন না, যা ব্যাটারির পাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সঠিক নিয়মে নিয়মিত ডিস্ট্রিবিউট ওয়াটার ,ব্যবহার করলে ব্যাটারি যেমন বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ জোগাবে, তেমনই বড় ধরনের বড় দুর্ঘটনা থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

পোস্ট সূচিপত্রঃ আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম

আইপিএস দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে এর ব্যাটারির সঠিক পরিচর্যা জরুরি। বিশেষ করে ব্যাটারির পানি বা ডিস্ট্রিওর্ড ওয়াটার সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটু অসতর্ক হলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা যেমন কমে যায়, তেমনি বড় ধরনের ক্ষতিও হতে পারে। ব্যাটারির পানির লেভেল চেক করার জন্য ওপরে নির্দিষ্ট ফ্লোট ইন্ডিকেটর’ বা সূচক থাকে। যখন পানির মাত্রা সবুজ দাগ ছেড়ে নিচে  লাল দাগের কাছাকাছি চলে আসে, তখনই পানি দিতে হবে। 

কখনোই স্বাভাবিক কল, ফিল্টার বা মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করা যাবে না। বাজার থেকে শুধুমাত্র বোতলজাত ডিস্ট্রিবিউট ওয়াটার  ব্যাটারির জন্য নির্দিষ্ট পানি কিনে এনে ব্যবহার করুন। পানির ক্যাপ খুলে সাবধানে ডিস্ট্রিবিউটেড ওয়াটার ঢালুন। সূচকটি সবুজ দাগ বা নির্দিষ্ট আপার মার্ক ছুলেই পানি দেওয়া বন্ধ করুন। বেশি ওভারফ্লো বা কানায় কানায় পানি দেওয়া যাবে না, এতে চার্জিংয়ের সময় এসিড উপচে পড়তে পারে। ব্যাটারি ফুল চার্জ থাকা অবস্থায় অথবা আইপিএস চালু থাকা অবস্থায় পানি দেওয়া সবচেয়ে ভালো।

চার্জ শূন্য থাকা অবস্থায় ব্যাটারিতে পানি দেওয়া ঠিক নয়। পানি দেওয়া শেষ হলে ক্যাপগুলো ভালো করে আটকে দিন। ওপরের অংশ শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন, যেন ব্যাটারির মাথায় পানি জমে জং না ধরে। প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর অন্তত একবার ব্যাটারির পানির লেভেল পরীক্ষা করুন। এই সামান্য যত্নই আপনার আইপিএস ব্যাটারির স্থায়ীত্ব দ্বিগুণ করে দেবে।

ব্যাটারির পানি প্রতি ২-৩ মাসে নিয়মিত চেক করুন

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম। আইপিএস ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে এর নিয়মিত পরিচর্যায়। বিশেষ করে ব্যাটারির পানি প্রতি ২-৩ মাস পর পর চেক করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। সঠিক সময়ে ব্যাটারির পানির লেভেল পরীক্ষা করলে ব্যাটারি অকালে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। কেন ২-৩ মাস পর পর চেক করবেন? নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চার্জিংয়ের সময় ব্যাটারির পানি বাষ্পীভূত হয়ে কমে যায়। 

পানির লেভেল নেমে গেলে ব্যাটারির ভেতরে থাকা মেটাল প্লেটগুলো বাতাসে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।  নির্দিষ্ট সময় পর পর চেক করলে বুঝতে পারবেন কখন পানি দেওয়া প্রয়োজন। ফ্লোট ইন্ডিকেটর লাল দাগের কাছাকাছি গেলেই নতুন করে ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার দিয়ে লেভেল সঠিক রাখা যায়।  হঠাৎ করে আইপিএস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ব্যাকআপ টাইম কমে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অল্প একটু সচেতনতাই আপনার দামি ব্যাটারিকে বছরের পর বছর সচল ও কার্যকর রাখবে।

সবসময় শুধুমাত্র ফিল্টার করা ডিস্টিল্ড ওয়াটার ব্যবহার করুন

আইপিএস ব্যাটারির স্থায়ীত্ব এবং সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে ডিস্টিলড ওয়াটার ছাড়া পানির কোনো বিকল্প নেই। অনেকেই না বুঝে সাধারণ ট্যাপের পানি, ফুটানো পানি কিংবা মিনারেল ওয়াটার ব্যাটারিতে ব্যবহার করে ফেলেন যা ব্যাটারির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেন শুধুমাত্র ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করবেন? খাবার পানি বা টিউবওয়েলের পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ পদার্থ থাকে। এগুলো ব্যাটারির ভেতরের সিসার প্লেটে আস্তরণ তৈরি করে কেমিক্যাল বিক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমিয়ে দেয়।
প্রক্রিয়াজাত করা বিশুদ্ধ ডিস্টিলড ওয়াটারে কোনো ক্ষতিকর খনিজ বা জীবাণু থাকে না। ফলে ব্যাটারির মেটাল প্লেটগুলো দীর্ঘকাল সুরক্ষিত থাকে এবং প্লেট সহজে নষ্ট হয় না। ব্যাটারিতে বিশুদ্ধ ডিস্ট্রিবিউটেড ওয়াটার ব্যবহার করলে এটি সঠিক সময়ে ফুল চার্জ হতে পারে এবং আগের মতোই দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রদান করে। আপনার মূল্যবান আইপিএস ব্যাটারিটিকে অকালে নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে এবং বড় খরচের হাত থেকে বাঁচতে সবসময় বাজার থেকে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের বোতলজাত ডিস্টিলড ওয়াটার কিনে ব্যবহার করুন।

ব্যাটারিতে ভুলেও সাধারণ বা টিউবলের পানি দেবেন না

আইপিএস ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে এতে সঠিক পানি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই অসাবধানতাবশত ব্যাটারিতে সাধারণ খাবার পানি, ট্যাপের পানি কিংবা টিউবওয়েলের পানি ঢেলে দেন। এটি ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ। সাধারণ বা টিউবওয়েলের পানি কেন ক্ষতিকর? টিউবওয়েল ও ট্যাপের পানিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ প্রচুর খনিজ (মিনারেল) থাকে। এসব খনিজ ব্যাটারির ভেতরের সিসার পাতের  ক্ষতি করে এবং এসিডের স্বাভাবিক রাসায়নিক বিক্রিয়া আটকে দেয়। 
সাধারণ পানি ব্যবহারের ফলে ব্যাটারি দ্রুত চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়। ফলে আইপিএস আগের মতো দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ দিতে পারে না। পানিতে থাকা আয়রন জমা হয়ে ব্যাটারির ভেতরের প্লেটে আয়রনের আস্তরণ তৈরি করে, যা ব্যাটারিকে স্থায়ীভাবে অকেজো করে দিতে পারে। তাই ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সাধারণ পানি পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। আইপিএস-এর পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সবসময় বাজার থেকে বোতলজাত ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার  বা পাতিত পানি কিনে ব্যবহার করুন।

লেভেল ইনডিকেটরের লাল দাগের নিচে নামলেই পানি দিন

আইপিএস ব্যাটারি সঠিক নিয়মে বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো এর পানির মাত্রা বা লেভেল জানা। এটি বোঝার জন্য ব্যাটারির ওপর ফ্লোট লেভেল ইন্ডিকেটর সূচক থাকে। যখন এই ইন্ডিকেটর বা প্লাস্টিকের ফ্লোটারটির লাল দাগ নিচে নেমে যায়, তখনই বুঝতে হবে ব্যাটারিতে ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার দেওয়ার সঠিক সময় এসেছে। লাল দাগের নিচে নামলে পানি দেওয়া কেন জরুরি? ইন্ডিকেটর লাল দাগে নেমে গেলে ব্যাটারির ভেতরে থাকা সিসার প্লেটগুলো শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্লেট বাতাসে উন্মুক্ত হলে দ্রুত জং ধরে নষ্ট হয়ে যায়। ইন্ডিকেটর দেখে পানি দিলে ব্যাটারিতে পানির ঘাটতি হওয়ার আগেই আপনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন, যা ব্যাটারির ক্ষতি রোধ করে।  সূচকটি আবার সবুজ বা ওপরের নিরাপদ স্থানে উঠে আসা পর্যন্ত পানি দেওয়া উচিত, এর বেশি দেওয়া ঠিক নয়।
আইপিএস ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে প্রতি কয়েক সপ্তাহ পর পর ইন্ডিকেটরটি পরীক্ষা করুন। লাল দাগের নিচে নামলেই নিয়ম মেনে ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার ঢালুন এবং ব্যাটারিকে রাখুন দীর্ঘস্থায়ী।

পানি ঢালার সময় ব্যাটারির সবুজ দাগ পর্যন্ত পূর্ণ করুন

আইপিএস ব্যাটারির সঠিক পরিচর্যায় পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারিতে পানি কম দেওয়া যেমন ক্ষতিকর, ঠিক তেমনই অতিরিক্ত পানি দেওয়াও সমান বিপজ্জনক। তাই পানি ঢালার সময় ব্যাটারির সবুজ দাগ পর্যন্ত পূর্ণ করা একটি আদর্শ নিয়ম। কেন সবুজ দাগ পর্যন্ত পানি দেবেন?  চার্জ হওয়ার সময় ব্যাটারির ভেতরের এসিড ও পানি উত্তপ্ত হয়ে ফুলে ওঠে। সবুজ দাগের বেশি পানি দিলে চার্জিংয়ের সময় সেই কেমিক্যাল উপচে বাইরে চলে আসতে পারে, যা ব্যাটারির টার্মিনাল নষ্ট করে দেয়। 

ব্যাটারির পানির ফ্লোট ইন্ডিকেটরটি যখন সবুজ দাগ স্পর্শ করে, তার অর্থ ভেতরের সিসার প্লেটগুলো সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে আছে এবং নিরাপদে কাজ করছে। সবুজ দাগ পর্যন্ত পানি ঢাললে এসিড ও ডিস্ট্রিলেড ওয়াটারের সঠিক অনুপাত বজায় থাকে, যা ব্যাকআপ টাইম ভালো রাখতে সাহায্য করে। ব্যাটারিতে সবসময় বোতলজাত ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার ব্যবহার করুন এবং পানি ঢালার সময় সবুজ দাগ ছোঁয়া মাত্রই থামুন। এই নিয়ম মেনে চললে ব্যাটারি দীর্ঘদিন নতুন ও শক্তিশালী থাকবে।

পানি বেশি দিয়ে ব্যাটারির মাথা উপচে পড়তে দেবেন না

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম। আইপিএস ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সময় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন বেশি পানি দিলে হয়তো ব্যাটারি দীর্ঘদিন চলবে, কিন্তু ব্যাটারির মুখ উপচে পড়া পানি অত্যন্ত ক্ষতিকর। ব্যাটারি যখন চার্জ হয়, তখন ভেতরে থাকা পানি ও এসিডের মিশ্রণ কিছুটা গরম হয়ে ফুটতে শুরু করে এবং আয়তনে বাড়ে। পানি বেশি দিলে এই কেমিক্যাল ব্যাটারির মুখ দিয়ে বাইরে উপচে পড়ে।

উপচে পড়া এসিড ব্যাটারির মাথার ওপর এবং ক্যাবল টার্মিনালে জমতে শুরু করে। এতে জং  ধরে এবং বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা সৃষ্টি হয়। পানি উপচে পড়ে গেলে ব্যাটারির ভেতরের এসিডের ঘনত্ব কমে যায়, যার ফলে ব্যাটারি আগের মতো আর চার্জ ধরে রাখতে পারে না। তাই ব্যাটারিতে ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার ঢালার সময় ইন্ডিকেটরের মাত্রা খেয়াল রাখুন। পানি কখনো কানায় কানায় বা বেশি ঢালবেন না, সবুজ দাগ ছোঁয়া মাত্রই থামুন।

পানি দেওয়ার আগে অবশ্যই আইপিএস মেইন সুইচ বন্ধ করুন

আইপিএস ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার আগে মেন সুইচ বা পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা পদক্ষেপ। অনেকেই অলসতা করে বা তাড়াহুড়োয় আইপিএস চালু রেখেই ব্যাটারিতে ডিস্ট্রিলেড ওয়াটার ঢালতে যান, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মেন সুইচ বন্ধ করা কেন জরুরি? বিদ্যুৎ চালু থাকা অবস্থায় পানি ঢালতে গেলে হাত ফসকে পানি ব্যাটারির টার্মিনাল বা সংযোগস্থলে পড়তে পারে। এতে তাৎক্ষণিক বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

আইপিএস চালু থাকলে এর ভেতরের সার্কিটে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। বিদ্যুৎ বন্ধ না করে কাজ করলে বিপজ্জনক ইলেকট্রিক শক খাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।  সুইচ বন্ধ করে প্রধান পাওয়ার প্লাগ খুলে নিলে একদম দুশ্চিন্তামুক্ত ও নিরাপদে ব্যাটারির ক্যাপ খুলে পানি দেওয়া সম্ভব হয়। আইপিএস ব্যাটারির পরিচর্যা করার সময় সর্বদা নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথমে ভাবুন। পানি ঢালার আগে অবশ্যই আইপিএস এবং মেইন পাওয়ার পাওয়ার সুইচ বন্ধ নিশ্চিত করে নিন।

ব্যাটারি সবসময় আলো-বাতাসযুক্ত খোলা ও শুকনো জায়গায় রাখুন

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম । ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক স্থানে এটি রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় অসাবধানতাবশত ব্যাটারি এমন জায়গায় রাখা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে না বা ভেজা থাকে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। কেন আলো-বাতাসযুক্ত ও শুকনো জায়গায় রাখবেন? ব্যাটারি চার্জ হওয়া বা ব্যবহারের সময় কিছুটা হাইড্রোজেন বা রাসায়নিক গ্যাস তৈরি হয়। বদ্ধ জায়গায় এই গ্যাস জমে আগুন লাগার বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে।
আলো-বাতাস থাকলে গ্যাস সহজেই বাতাসে মিলে যায়। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ব্যাটারি রাখলে টার্মিনালে মরিচা ধরে। পানির সংস্পর্শে এসে সর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারির ভেতরের সার্কিট স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে। শুকনো এবং ঠান্ডা জায়গায় রাখলে এটি দীর্ঘদিন ভালো সার্ভিস দেয়। ব্যাটারি মেঝের সরাসরি পানির সংস্পর্শ থেকে দূরে একটু উঁচু বা কাঠের বোর্ডের ওপর রাখুন। স্যাঁতসেঁতে দেয়াল বা সরাসরি কড়া রোদের নিচে রাখা থেকে বিরত থাকুন। সময় সময় ব্যাটারির চারপাশ মুছে পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।

বছরে অন্তত একবার অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে ব্যাটারি পরীক্ষা করান

আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম । ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখা এবং বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে বছরে অন্তত একবার অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে ব্যাটারি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। খালি চোখে ব্যাটারির ভেতরের সমস্যা বা ক্ষতির মাত্রা বোঝা অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। কেন পেশাদার টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করাবেন? ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ পাওয়ার সেল নষ্ট হচ্ছে কি না বা সঠিক ভোল্টেজ দিচ্ছে কি না, তা সাধারণ চোখে বোঝা যায় না। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ডিজিটাল মিটার দিয়ে সঠিক অবস্থা বুঝতে পারেন।
অনেক সময় ব্যাটারিতে অতিরিক্ত চার্জিং, শর্ট সার্কিট বা গ্যাস জমে ভিতরের ক্ষতি হতে থাকে। সময়মতো এটি পরীক্ষা না করলে হঠাৎ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ছোটখাটো সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়লে সামান্য খরচে তা ঠিক করা যায়। অবহেলা করলে পরবর্তীতে পুরো ব্যাটারিই পরিবর্তন করতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল। ব্যাটারির টার্মিনালে কার্বন জমা হলে দক্ষ মানুষের সহায়তা নিন। চার্জিং সিস্টেম ও তারের সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিয়মিত যাচাই করুন।

শেষ কথাঃ আইপিএস এর ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম (লেখকের মন্তব্য) 

আইপিএস ব্যাটারিতে পানি দেওয়া সহজ মনে হলেও একটু অসাবধানতা ব্যাটারির আয়ু এক ধাক্কায় অর্ধেক করে দিতে পারে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যত্ন নিলে ব্যাটারি দীর্ঘদিন দুর্দান্ত ব্যাকআপ দেয় এবং অকাল বিকল হওয়া থেকে রক্ষা পায়।  সাধারণ খাবার পানি, ফোটানো পানি বা ফিল্টারের পানিতে নানারকম খনিজ ও আয়রন থাকে, যা ব্যাটারির প্লেট দ্রুত নষ্ট করে দেয়। তাই সবসময় দোকান থেকে বোতলজাত বিশুদ্ধ ডিস্টিল্ড ওয়াটার ব্যবহার করতে হবে।  ব্যাটারির সূচক বা ইন্ডিকেটর ক্যাপের দিকে লক্ষ্য রাখুন। পানি কখনো দাগের ওপরে দেবেন না। 

অতিরিক্ত পানি দিলে চার্জিংয়ের সময় ভেতরে তৈরি হওয়া গরমে অ্যাসিডযুক্ত পানি উপচে পড়ে মেঝে ও বডি নষ্ট করবে। সবসময় ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ থাকা অবস্থায় পানি রিফিল করা উত্তম। এতে ওয়াটার লেভেলের একদম নিখুঁত হিসাব পাওয়া যায়। কাজ শুরু করার আগে আইপিএস প্লাগ থেকে খুলে মেইন সুইচ বন্ধ করে নেওয়া নিরাপদ। অ্যাসিডের ছিটা থেকে বাঁচতে হাতে গ্লাভস পরা ভালো। সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে পানি রিফিল করার এই সামান্য অভ্যাসটুকু আপনার ব্যাটারির আয়ু বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং হুটহাট বাড়তি খরচের হাত থেকে মুক্তি দেবে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url