স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি । সহজ কথায় বললে, শেয়ার
বাজার কোন আলাদিনের চোড়াগ নয় যে রাতারাতি আপনাকে কোটিপতি বানিয়ে দেবে! বরং এটি
এমন এক দাবার চাল, যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্য চূড়ায়।
আর একটি ভুল পদক্ষেপ চোখের পলকে শূন্য করে দিতে পারে আপনার কষ্টের
সঞ্চয়।
আমরা অনেকেই বেশি লাভের আশায় জেনেশুনে বা না বুঝে
ঝুঁকির মুখে পা বাড়াই। কিন্তু অন্ধের মতো না বুঝে টেন্ডার এর পেছনে ছোটা মানে
জেনে বুঝে নিচের পায়ে কুড়াল মারা। শেয়ার বাজারের ঝুঁকি থাকবেই, তবে সচেতনতা ও
সঠিক কৌশল জানলে সে ঝুঁকি সামলে সফল হওয়া সম্ভব।
পোস্ট সূচিপত্রঃ স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
- স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
- না বুঝে শেয়ার কেনা মানে নিশ্চিত লোকসান
- গুজবে কান দিলে কষ্টের পুঁজি হারাবেন সহজেই
- সব টাকা কখনোই এক কোম্পানিতে খাটাবেন না
- লোভের বশে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার চিন্তা বিপদজনক
- কোম্পানির আর্থিক অবস্থা না বুঝে বিনিয়োগ বিপজ্জনক
- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় শেয়ারের দাম কমে
- শেয়ার বাজার জুয়া নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা বহুগুণ
- জরুরি সঞ্চয়ের টাকা কখনো শেয়ার বাজারে আনবেন না
- শেয়ার বাজারের সঠিক কৌশলই ঝুঁকি কমায় বহুগুণ
- সঠিক জ্ঞান ও ধৈর্যই শেয়ার বাজারে সাফল্যের চাবিকাঠি
- শেষ কথাঃ স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
অনেকেই ভাবেন, শেয়ারবাজার মানে টাকা পাহাড় গড়ার শর্টকাট উপায়। কিন্তু
বাস্তবতার দাপটের সেই ধারণা ভাঙতে সময় লাগে না। সঠিক জ্ঞান ছাড়া শেয়ারবাজারের
টাকা খাটানো আর খোলা চোখে গর্তে পা দেওয়ার দুটোই সমান কথা! শেয়ারবাজারে যেমন
অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, তেমনি প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়ায় নানা ধরনের অজানা
ঝুঁকি । নতুন ও অভিজ্ঞ ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য যেসব ঝুঁকে কথা মাথায় রাখা
জরুরী।
বিশ্ববাজারে সামান্য হালচাল, সুদের হারের পরিবর্তন বা রাজনৈতিক গুজবে
শেয়ারের দামে তীব্র পতন ঘটতে পারে । চকচক করলে যেমন সোনা হয় না, তেমনি
হুট করে কোনো চটকদার কোম্পানির শেয়ার কিনে ফেললে শেষমেষ চরম লোকসান গুনতে হতে
পারে। শেয়ার বাজারে দেয়। ঝুঁকি এড়িয়ে টিকে থাকা সবচেয়ে বড় মন্ত্র হলো,
কখনোই নিজের সবটুকু সহজে এক জায়গায় ঢালবেন না। বিনিয়োগকে বিভিন্ন খাতে ভাগ করে
নিন এবং গুজবে কান না দিয়ে প্রতিটি কোম্পানির ব্যবসা ক্ষতি আর নিজে পরখ
করে সিদ্ধান্ত নিন।
না বুঝে শেয়ার কেনা মানে নিশ্চিত লোকসান
শেয়ার বাজারে অনেকেই পা বাড়ান রাতারাতের ধনী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। অমুক
শেয়ারের লাভ করেছে বা অমুক জায়গায় দারুন খবর শোনা যাচ্ছে, এমন কথা শুনে না
বুঝে নিজের কষ্টার্জিত টাকা ঢেলে দেওয়ার মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তত সত্য
হলো, না বুঝে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা আর খোলা চোখে গর্তে লাভ দেওয়া একই কথা।
অনেকে শেয়ার বাজার কে লটারি মনে করেন। কিন্তু এটি কোন ভাগ্য পরীক্ষা নয়, এটি
একটি খাঁটি ব্যবসা। আপনি যখন কোন কোম্পানি শেয়ার কিনেছেন, তখন আপনি মূলত সেই
ব্যবসা একজন অংশীদার হচ্ছেন। এখন বলুন, যে ব্যবসা আয় ব্যয্ লাভ ক্ষতি বা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে, আপনার কোন ধারনা নেই।
সেখানে টাকা ঢাললে লোকসান ছাড়া আর কি আশা করা যায়? বাজার যখন ভালো থাকে, তখন না
বুঝে কিনেও হয়তো সাময়িক লাভ দেখা যেতে পারে। কিন্তু ঝড়ো হওয়া বা বাজারের
মন্দা শুরু হলে অভিজ্ঞতা ছাড়া পুঁজি চোখের পলকে হাওয়া হয়ে যায়। না বুঝে
বিনিয়োগ করলে আপনি ভয় ভুল সময়ে শেয়ার বিক্রি করে ফেলবেন এবং বড় ধাক্কা
খাবেন। তাই শেয়ারবাজারে নামার আগে নিজের টাকাকে সম্মান করতে শিখুন। অন্ধের মত না
হেঁটে অন্তত তিনদিন পড়ালেখা করুন, কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল জানুন এবং জেনে বুঝে
সিদ্ধান্ত নিন।
গুজবে কান দিলে কষ্টের পুঁজি হারাবেন সহজেই
শেয়ার বাজার বা যেকোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি প্রবাদ খুব সত্য । কান চিলে
নিয়ে গেছে শুনে চীলের পেছনে দৌড়ানো বোকামি। আমাদের দেশে অনেকে নিজের কষ্টার্জিত
টাকা কোথায় খাটাচ্ছেন, তা নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ না করে অন্যের বা নানা গুজবের
ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন। পরিণতি? এক লহমায় নিজের জমানো মূলধন
হাওয়া হয়ে যাওয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের, অচেনা কোন টিপস দাতা, কিংবা
আড্ডার গুজবে কান দিয়ে বড়লোক হওয়ার ফাঁদে পা দেওয়া অত্যন্ত বিপদজনক। এক
শ্রেণীর অসাধু চক্র বাজারের কৃত্রিমভাবে কোন শেয়ার বা পণ্যের দাম বাড়িয়ে গুজব
ছড়ায়।
সাধারণ মানুষ যখন না বুঝে বেশি লাভের আশায় সেখানে টাকা ঢালেন, তখনই চক্রটি
নিজেদের লাভ তুলে নিয়ে সরে পড়ে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পড়ে যান চরম
লোকসানে। আপনার পরিশ্রমের প্রতিটি টাকা অমূল। তাই কোন গুজবে কান দেওয়ার আগে
নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন?
কোম্পানি বা হাতের আসল পারফরম্যান্স কেমন? এই তথ্য সত্যতা কতটুকু? এটি কি
কোন হুজুক নাকি বাস্তব লাভ জনক প্রস্তাব? বিনিয়োগের জগতে শর্টকাট বলে কিছু নেই।
অন্যের কথায় অন্ধ বিশ্বাস না করে নিজে জানুন, বুঝুন এবং সঠিক তথ্য যাচাই করে
সিদ্ধান্ত নিন।
সব টাকা কখনোই এক কোম্পানিতে খাটাবেন না
বিনিয়োগের জগতে একটি বহু প্রাচীন ও বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, সব ডিম কখনোই
একঝুড়িতে রাখবেন না। কারণ কোনোভাবেই সে ঝুরিটি হাত থেকে পড়ে গেলে ভেতরের সবকটি
ডিমি এক মুহূর্তেই ভেঙ্গে ছাতু হয়ে যাবে । ঠিক একইভাবে, আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয়
সবটুকু টাকা যখন একটি মাত্র কোম্পানিতে খাটাবেন ,তখন আপনি নিজেকে মারাত্মক এক
ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিবেন। ব্যবসা জগৎ অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। আজ যে কোম্পানি
হাজার কোটি টাকা লাভে আছে , কাল রাজনৈতিক অস্থিরতা ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রাকৃতিক
দুর্যোগের কারণে সেটি চরম লোকসানে পড়তে পারে।
এখন আপনার সব টাকা যদি কেবল সে একটি কোম্পানিতেই থাকে, তবে কোম্পানির পতনের সাথে
সাথে আপনার জীবনের সঞ্চয় ও চোখের পলকে হাওয়া হয়ে যাবে। এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে
থাকার একমাত্র উপায় হলো, পোর্টফলিও বৈচিত্র্যায়ন অর্থাৎ আপনার বিনিয়োগের টাকা
বেশ কয়েকটি শক্ত ও ভালো কোম্পানিতে ভাগ করে দেওয়া। এতে করে কোন একটি কোম্পানির
লোকসান করলেও অন্য কোম্পানিগুলোর লাভ সে ক্ষতি পুষিয়ে দিবে। বুদ্ধিমানের কাজ হল
আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন লাভজনক খাতে পুঁজি ছড়িয়ে দেওয়া।
লোভের বশে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার চিন্তা বিপদজনক
রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাব, এর চিন্তাটি হল মানুষের অর্থকষ্টের এবং মূলধন হারানোর
সবচেয়ে বড় ফাঁদ। দ্রুত ধনী হওয়ার তীব্র লোপ মানুষকে যুক্তি, বুদ্ধি এবং ধৈর্য
বিসর্জন দিতে বাধ্য করে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগায় নানা ধরনের ভুয়া স্কিম, লটারি,
আর অনৈতিক আর্থিক চক্রান্তকারীরা। ব্যবসা বা বিনিয়োগের সফলতার কোন শর্টকাট বা
জাদুর মন্ত্র নেই। আর্থিক প্রবৃদ্ধি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা অর্জনের সময়
সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু যখনই কেউ না বুঝে রাতারাতি টাকা
দ্বিগুণ করার লোভে ঝুঁকি পূর্ণ জায়গায় টাকা ঢালে, তখনই সে নিজের কষ্টার্জিত
সঞ্চয়কে চরম বিপদের মুখে ফেলে দেয়।
ইতিহাস সাক্ষী অলৌকিক কিছু পাওয়ার লোভে যারা তাড়াহুড়া করেছে, তাদের
অধিকাংশই নিঃস্ব হয়ে রাজপথ থেকে পথে নেমে এসেছে। লোক সব সময় মানুষের বিচার
বুদ্ধি অন্ধ করে দেয় । আপনি যা আয় করেছেন, তা ধীরে ধীরে সঠিক জায়গায় দীর্ঘ
মেয়াদে বিনিয়োগ করুন । অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে সুরক্ষিতপথে এগুলো অনেক
বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, এক রাতে গড়ে ওঠা প্রাসাদ বালির বাঁধের মতো এক
মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। তাই রাতারাতি কোটিপতি হওয়া বিপদজনক প্রবল থেকে নিজেকে
দূরে রাখুন এবং সততা ও ধৈর্যের সাথে আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।
কোম্পানির আর্থিক অবস্থা না বুঝে বিনিয়োগ বিপজ্জনক
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি। বাইরে থেকে একটি দোকান
দেখতে যতই সুন্দর মনে হোক না কেন, তার ক্যাশ বাক্সে যদি টাকা না থাকে , তবে সে
দোকান দিন শেষের দেউলিয়া হতে বাধ্য। শেয়ারবাজার বা যে কোন ব্যবসায়ীর
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য। আপনি যে কোম্পানিতে টাকা ঢালছেন,
তার আসল আর্থিক অবস্থা না জেনে বিনিয়োগ করা আর চোখ বন্ধ করে চলন্ত ট্রেনে লাভ
দেয়া দুটোই সমান বিপদজনক।
কখনোই কেবল চটকদার বিজ্ঞাপন, কোম্পানির নাম বা সামরিক গুঞ্জন দেখে সিদ্ধান্ত
নেওয়া উচিত নয়। যে কোম্পানির আয় নেই, মাথায় বিশাল ঋণের বোঝা জমে আছে কিংবা
বাজারে যাদের কোন পণ্য চাহিদ,কমেছে , সেই কোম্পানির শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে
বাড়লেও তা তাসের ঘরের মতো যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে । নিজের কষ্টার্জিত
টাকাকে নিরাপদে রাখতে হলে আবেগের বদলে হিসাব নিকাশ কে প্রাধান্য দিন। কোম্পানির
আর্থিক ভিত্তি মজবুত থাকলেও বাজারের মন্দার মধ্যেও আপনার টাকা নিরাপদ থাকবে ।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় শেয়ারের দাম কমে
শেয়ারবাজার হলো দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও অর্থনীতির একটি আয়না। দেশের যখনই
রাজনৈতিক সংঘাত, সরকার পরিবর্তন ,হরতাল কিংবা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও
অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয় , তার সরাসরি প্রভাব দিয়ে পড়ে শেয়ার বাজারে । এ
ধরনের উত্তাল পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ শেয়ারের দামি হুহু করে কমতে শুরু করে।
কিন্তু কেন এমন হয়? কারণ খুব সহজ। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় বড়
বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। কাঁচামালের দাম
বেড়ে যায়, বিক্রি কমে যায় এবং ব্যাংকের সুদের হার উঠানামা করে।
ফলে কোম্পানির লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে
এবং হাত গুটিয়ে নেয়। অনেকেই ভয়ে কম দামে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিতে
চান, যার ফলে বাজারে ধস নামে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের করণীয়
কি? ধৈর্য ধরে থাকুন, অস্থির সময়ে আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়া করে লোকসানে শেয়ার
বিক্রি করবেন না। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ঝড় সামলে ওঠার মত শক্তি যেসব বড় ও
মৌলিক কোম্পানি আছে, সেগুলোতে মন্দার সময়ে ভালো দামের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি
করুন।
শেয়ার বাজার জুয়া নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি। শেয়ার বাজার কে অনেকের
লটারি বা জুয়ার সাথে তুলনা করেন। তারা মনে করেন, আজ টাকা ঢাললেই কাল তার
দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, শেয়ার বাজার কোন ভাগ্য পরীক্ষার
খেলা নয় , এটি পুরোপুরি একটি গাণিতিক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা। আপনি যখন কোন
কোম্পানির শেয়ার কেনেন, তখন আপনি কেবল একটি কাগজের টুকরো বা সংখ্যা কিনছেন না
, বরং সেই কোম্পানির সাময়িক স্বত্ব বা মালিকানার অংশীদার হচ্ছেন।
জুয়ায় জয়ের সম্ভাবনা নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর, কিন্তু শেয়ার বাজারে সফলতা নির্ভর
করে সঠিক কোম্পানি বাছাই, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর। যারা একদিনে
বড়লোক হতে চান, তারাই মূলত জুয়াড়ির মানসিকতা নিয়ে বাজারে আসেন এবং ভুল জায়গায়
টাকা ঢেলে নিঃস্ব হন। অন্যদিকে, বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা জানেন যে একটি ব্যবসা
রাতারাতি বাড়ে না। কোম্পানির বিক্রি বৃদ্ধি, নতুন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন এবং লাভজনক
হওয়ার জন্য সময় দিতে হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ে বাজারে দরপতন বা অস্থিরতা আসতেই পারে,
তবে ভালো ও মৌলিক ক্ষমতার শক্ত কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ
জরুরি সঞ্চয়ের টাকা কখনো শেয়ার বাজারে আনবেন না
জীবনে বিপদ-আপদ কখনো বলে-কয়ে আসে না। আকস্মিক অসুস্থতা, চাকরি হারানো কিংবা
পরিবারের যেকোনো আর্থিক সংকটে যে টাকাটি আমাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়,
তা-ই হলো জরুরি সঞ্চয়’ বা ইমার্জেন্সি ফান্ড। কিন্তু অনেকে বেশি লাভের
প্রলোভনে পড়ে এই জরুরি জমানো টাকাও শেয়ার বাজারে নামিয়ে দেন, যা জীবনের জন্য
এক মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনে। শেয়ার বাজার প্রকৃতির মতোই পরিবর্তনশীল। আজ যে
শেয়ারের দাম উর্ধ্বমুখী, কাল কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটে তার দাম এক
ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।
এখন ভাবুন, আপনার যদি ঠিক এমন মন্দার সময়েই কোনো জরুরি চিকিৎসার জন্য টাকার
খুব প্রয়োজন পড়ে? বাধ্য হয়ে আপনাকে লোকসানেই আপনার শেয়ার বিক্রি করে দিতে
হবে। এতে কষ্টের সঞ্চয়ও হারাবেন, আবার বিপদের সময় বড় ধরনের আর্থিক অনটনেও পড়ে
যাবেন। তাই বুদ্ধিমানের নিয়ম হলো, আগে নিজেও পরিবারের তিন থেকে ছয় মাসের
জীবনযাত্রা খরচ আলাদা করে নিরাপদ কোন ব্যাংকে আমানতের সঞ্চয় রাখেন। তারপর
আপনার কাছে যে বাড়তি টাকা থাকবে, যা অন্তত ২/৩ বছর কোন কাজে লাগবে না , কেবল
সেই টাকাটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন।
শেয়ার বাজারের সঠিক কৌশলই ঝুঁকি কমায় বহুগুণ
শেয়ার বাজারকে অনেকেই একটি ভয়ংকর সমুদ্রের সাথে তুলনা করেছেন , যেখানে না
জেনে সাঁতার কাটলে ডুবে যাওয়ার প্রায় নিশ্চিত । তবে সত্যিটা হল, সঠিক কৌশল ও
কৌশলগত জ্ঞান থাকলে এই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সফলতার উপকূলে পৌঁছানো
সম্ভব। শেয়ার বাজারের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে, কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ ও নিয়ম
মেনে বিনিয়োগ করলে সে ঝুঁকি কমিয়ে আনা বহু গুণের সম্ভব ।তাহলে সঠিক কৌশলগুলো
আসলে কী? প্রথমত, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ন অর্থাৎ সব টাকা এক জায়গায় না ঢেলে
ব্যাংক, ওষুধ, বা প্রযুক্তি খাতের মতো ভিন্ন ভিন্ন ভালো কোম্পানিতে ছড়িয়ে
বিনিয়োগ করা।
দ্বিতীয়ত, স্টপ-লস ব্যবহার করা। বাজারে বড় ধরনের ধস নামলে যেন বিশাল
অঙ্কের লোকসান না হয়, সেজন্য আগে থেকেই সীমানা নির্ধারণ করে রাখা জরুরি।
তৃতীয়ত, নিয়মিত বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ। যে কোম্পানির শেয়ার কিনছেন, তার
আয়-ব্যয় ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।পরিশেষে, কোনো প্রকার গুজব
বা আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে
এগোতে হবে।
সঠিক জ্ঞান ও ধৈর্যই শেয়ার বাজারে সাফল্যের চাবিকাঠি
শেয়ার বাজারে টিকে থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হওয়ার পেছনে কোন গোপন জাদু
মন্ত্র নেই। যা আছে, তা হল দুই অমূল্য হাতিয়ার, সঠিক জ্ঞান এবং অসীম ধৈর্য ।
এই দুটি বিষয় ছাড়া শেয়ার বাজার থেকে ভালো কিছু আশা করা আর মরুভূমিতে বৃষ্টির
জন্য অপেক্ষা করা একই কথা। প্রথমেই আসে সঠিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা । আন্দাজে
বা অন্যের দেখাদেখি শেয়ার কেনা কেবলই ঝুঁকি বাড়ায় । কিন্তু আপনি যখন কোন
কোম্পানির মূল আর্থিক ভিত্তি, তাদের ব্যবসা সম্ভাবনা , ম্যানেজমেন্টের সততা এবং
বাজারের ট্রেন্ড নিয়ে লেখাপড়া করবেন ।
তখন আপনার সিদ্ধান্ত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে । তথ্যভিত্তিক ও
সঠিক বিশ্লেষণই হলো সঠিক বিনিয়োগের ভিত্তি । তবে কেবল জ্ঞান থাকলে চলে না ,
তার সাথে দরকার হয় ধৈর্যর । কারণ শেয়ার বাজার কখনো সোজা পথে উপরে ওঠে না ।
এতে সাময়িক পতন , মন্দা এবং দরপতন থাকবে। অনভিজ্ঞ মানুষেরা বাজারে একটু ধস
দেখলে ,আতঙ্কে কম দামে শেয়ার বিক্রি করে লোকসান গুনে চলে যান । কিন্তু একজন
ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারী জানেন , ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম সাময়িক কমলেও
সময়ের সাথে সাথে তা আবার ঘুরে দাঁড়াবেই।
শেষ কথাঃ স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি
স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করার ঝুঁকি। স্টক মার্কেট বা শেয়ার
বাজার হলো এমন এক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, যেখানে যেমন রয়েছে ভালো মুনাফার সুযোগ,
তেমনি রয়েছে আর্থিক ঝুঁকির কঠিন বাস্তবতা। না জেনে, না বুঝে কিংবা কেবল
আবেগের বশে নামলে এই বাজার আপনার বছরের পর বছর ধরে জমোনো কষ্টার্জিত পুঁজি
চোখের পলকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে শেয়ার বাজার একটি
ভয়ের জায়গা।মনে রাখবেন, শেয়ার বাজারে ঝুঁকি পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে
সঠিক জ্ঞান, কৌশল এবং ধৈর্যের মাধ্যমে সেই ঝুঁকিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে
আনা সম্ভব।
আপনার জরুরি সঞ্চয় আলাদা রাখুন, সব টাকা এক জায়গায় না ঢেলে ভিন্ন ভিন্ন
ভালো কোম্পানিতে ভাগ করে বিনিয়োগ করুন এবং শর্টকাটে কোটিপতি হওয়ার লোভ ত্যাগ
করুন। শেয়ার বাজারে বড় জয় তাদেরই হয়, যারা লটারি জেতার মানসিকতা ছেড়ে একজন
সচেতন ব্যবসায়ীর মতো চিন্তা করবেন তাই আজই অন্ধের মত বিনিয়োগ বন্ধ করুন ,
শেখার পেছনে সময় দিন এবং বুঝে শুনে পা বাড়ান । আপনার একটি সচেতন ও বিচক্ষণ
সিদ্ধান্তই হতে পারে আপনার এবং আপনার পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ কে পুরোপুরি
নিরাপদ ও সফল করে তুলতে।



রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url