আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?


পানি আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ। পানি আমাদের শরীর এর অনেক উপকার করে এবং আমাদের ত্বক ফর্সা করতেও অনেক সাহায্য করে। পানি আমাদের ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। মুখের কালো দাগ দূর করে। মুখে ব্রণ কমায় এবং মুখ সুন্দর করে তুলে। 
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পানি খেলে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল হয়, কিন্তু সরাসরি 'ফর্সা'  হয় না। ​সৌন্দর্য সচেতন মানুষের কাছে 'ফর্সা ত্বক' সবসময়ই একটি আকর্ষণের বিষয়। আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে গায়ের রঙ ফর্সা হয়ে যায়। কিন্তু আসলে কি পানি পান করলে আমাদের ত্বকের মেলানিন কমে যায়? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে?

পোস্ট সূচিপত্রঃ আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?

আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?

আমাদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, প্রচুর পরিমাণে পানি খেলে গায়ের রং ফর্সা হয়ে যায়। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। গায়ের রং মূলত  নির্ভর করে আমাদের শরীরে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের ওপর। পানি সরাসরি এই মেলানিন কমিয়ে আপনাকে ফর্সা করবে না, তবে আপনার ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তুলবে। আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?  না পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয় না, কিন্তু ত্বক সুন্দর ও সতেজ হয়। 

পানি খেলে আপনি রাতারাতি ফর্সা হয়ে যাবেন না। তবে আপনার ত্বকে মলিনতা দূর হবে। একটি সুন্দর সুস্থ ,দাগ মুক্ত এবং উজ্জ্বল, ত্বকের জন্য পানির কোন বিকল্প নেই। কৃত্তিম প্রসাধনের চেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া অনেক বেশি স্থায়ী এবং নিরাপদ। পানির সাথে সামান্য লেবু রস মিশিয়ে নিলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর।

​পানি ও মানবদেহ একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক

আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়? জিজ্ঞাসা চিহ্ন​আমাদের শরীরের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% হলো পানি। কোষের গঠন থেকে শুরু করে রক্ত সঞ্চালন, সবকিছুতেই পানির প্রয়োজন। ত্বক যেহেতু শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ, তাই শরীরের অভ্যন্তরীণ পানির অভাব সরাসরি ত্বকে প্রতিফলিত হয়। যখন আমরা পর্যাপ্ত পানি পান করি, তখন কোষগুলো সজীব থাকে, যার প্রভাব ত্বকের উপরিভাগে দেখা যায়।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পানির কোন বিকল্প নেই। পানি ছাড়া মানুষের জীবন অনেকটা জ্বালান বিহীন ইঞ্জিনের মত। পানি কেবল একটি পানীয় নয় , এটি আমাদের বেঁচে থাকার মূল চালিকা শক্তি। শরীরকে সুস্থ ত্বককে উজ্জ্বল এবং মনকে ফুরফুরে রাখতে পানির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বলা হয় পানির অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং জীবনকে সুস্থ রাখুন।

পানি কি আসলেও আমাদের ত্বক ফর্সা করে? 

আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়? ত্বকের রঙ মূলত নির্ধারিত হয় আমাদের জিন এবং মেলানিনের পরিমাণের ওপর। পানি পান করলে শরীরের মেলানিন কমে যায় না, অর্থাৎ এটি কালো মানুষকে রাতারাতি ফর্সা করে দেয় না।​তবে, পানি পান করলে যা ঘটে তা হলো 'ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি'। যখন শরীর হাইড্রেটেড থাকে, তখন ত্বকের মরা চামড়া দ্রুত ঝরে যায় এবং ভেতর থেকে একটি সতেজ ভাব প্রকাশ পায়। মানুষ একেই অনেক সময় 'ফর্সা হওয়া' বলে ভুল করে। মূলত এটি ফর্সা হওয়া নয়, বরং ত্বকের হারানো জৌলুস ফিরে পাওয়া।

পানি আপনার গায়ের রং রাতারাতি ফর্সা করবে না। কিন্তু আপনার ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল, সতেজ এবং স্বাস্থ্যউজ্জ্বল , করবে। টক যখন শুকিয়ে যায় বা ডিহাইড্রেটড হয় ,তখন তা খসখসে ও প্রাণহীন দেখায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের কোষ গুলো পানি পায়, ফলে ত্বক টানটান এবং আদ্র থাকে। আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?  নিয়মিত পানি খেলে ভেতর থেকে হাইড্রেটড  ত্বক প্রাকৃতিকভাবে গ্লো করে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বা ব্ল্যাক সার্কুলেশন ভালো থাকে। যখন ত্বকের রক্তের প্রবাহ ঠিক থাকে, তখন ত্বক দেখতে গোলাপী ও সজীব লাগে।

​ত্বকের যত্নে পর্যাপ্ত পানি পানের জাদুকরী উপকারিতা

আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়? ​পানি আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বা ক্ষতিকারক বর্জ্য বের করে দেয়। রক্ত পরিষ্কার থাকলে ব্রণ বা ফুসকুড়ির সমস্যা কমে যায়, ফলে ত্বক পরিষ্কার দেখায়। শরীরে পানির অভাব হলে ত্বক খসখসে এবং রুক্ষ হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি ত্বককে ভেতর থেকে ময়েশ্চারাইজড রাখে।পানি ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। ফলে চামড়া ঝুলে যায় না এবং অকালে বলিরেখা দুর করে।অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের কারণে চোখের নিচে গর্ত বা কালো দাগ পড়ে। নিয়মিত পানি পানে এই সমস্যা অনেকটাই কমে।

​সুন্দর বলে টক আমরা সবাই চাই। আর এই সৌন্দর্যের খোঁজে আমরা দামি ক্রিম বা প্রসাধনই ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, পৃথিবীর সবচেয়ে কার্যকর এবং সস্তা বিউটি প্রোডাক্ট আমাদের হাতের কাছেই আছে তা হল বিশুদ্ধ পানি। আপনি যখন পর্যাপ্ত পানি পান করবেন, তখন আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ত্বকের প্রতিটি কোষের অক্সিজেন ও পুষ্টির উপাদান। ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং ন্যাচারাল গ্লো দেখা দেয়।

পানির সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া

​আমাদের ত্বকের টিস্যুগুলো পানির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত পানি পান করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। ভালো রক্ত সঞ্চালন মানেই কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছানো। যখন ত্বকের কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছায়, তখন ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই গ্লো  করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় 'স্কিন প্লাম্পিং ইফেক্ট' দেয় । ​অনেকে মনে করেন দিনে ৫-৬ লিটার পানি পান করলেই ত্বক কাঁচের মতো স্বচ্ছ হয়ে যাবে। এটি একটি ভুল ধারণা। অতিরিক্ত পানি পান করা শরীরের কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। 

ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য পানির পাশাপাশি প্রয়োজন, সুষম খাদ্য, ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ খাবার।পর্যাপ্ত ঘুম,সানস্ক্রিন ব্যবহার,সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন।​একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ২.৫ থেকে ৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) পানি পান করা উচিত। তবে আবহাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে এটি কম-বেশি হতে পারে। একবারে অনেক পানি না খেয়ে সারাদিন বিরতি দিয়ে পানি পান করা ত্বকের জন্য বেশি কার্যকর।

​শুধু পান করাই নয়, বাহ্যিক ব্যবহারে পানি ত্বককে সুন্দর রাখেঃ

ঠান্ডা পানির ঝাপটা সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের ছিদ্র সংকুচিত হয়। স্টিম বা ভাপ নেওয়া গরম পানির ভাপ নিলে ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়। ডিটক্স ওয়াটার  ত্বকের উজ্জ্বলতায় এক জাদুকরী পানীয়। সাধারণ পানির গুণাগুণ আরও বাড়িয়ে তুলতে 'ডিটক্স ওয়াটার' বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে দ্রুত ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেবু ও পুদিনা পাতার ডিটক্স এক গ্লাস পানিতে স্লাইস করা লেবু এবং কয়েকটা পুদিনা পাতা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। লেবুর ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে এবং পুদিনা ত্বককে শীতল রাখে।শসা ও আদার মিশ্রণ  শসা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং আদা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এই পানীয়টি নিয়মিত পান করলে ত্বকের ফোলাভাব কমে যায়। চিয়া সিড ও পানি চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে অতুলনীয়। ত্বকের সুস্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাস  পানির সহযোগী শক্তি। ​শুধু পানি পান করে ত্বককে সুন্দর রাখা সম্ভব নয় যদি না আপনার খাদ্যাভ্যাস সঠিক হয়।

ঋতুভেদে পানি পান এবং ত্বকের যত্ন

​আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী ত্বকের চাহিদাও বদলে যায় । শীতকাল  এই সময় তৃষ্ণা কম লাগে বলে আমরা পানি কম খাই। ফলে ত্বক ফেটে যায়। শীতকালেও অন্তত ২ লিটার পানি পান নিশ্চিত করতে হবে এবং কুসুম গরম পানি পান করা ত্বকের জন্য বেশি উপকারী।গ্রীষ্মকাল ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও পানি বেরিয়ে যায়। এই সময় পানির সাথে ডাবের পানি বা স্যালাইন যুক্ত করা উচিত যাতে ত্বক ডিহাইড্রেটেড হয়ে কালচে না দেখা যায়।

পানির পাশাপাশি যে খাবারগুলো আপনার ত্বককে ভেতর থেকে 'ফর্সা' বা উজ্জ্বল দেখাবে: ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল কমলা, মাল্টা, আমলকী এবং স্ট্রবেরি ত্বকের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি পালং শাক বা ব্রকলিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে।বাদাম ও বীজ  কাঠবাদাম এবং আখরোট ত্বকের প্রাকৃতিক তেল  নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা ত্বককে প্রাণবন্ত দেখায়।গ্রিন টি: এটি একটি চমৎকার ডিটক্স পানীয়। এতে থাকা ক্যাটেচিন ত্বকের কোষ মেরামত করে।

ত্বক উজ্জ্বল রাখতে লাই ফস্টাইলের ভূমিকা

​পানি পানের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে ত্বকের পরিবর্তন আপনি নিজেই লক্ষ্য করবেন। পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন  কারণ রাত জাগলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা ত্বকের ক্ষতি করে। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। দুশ্চিন্তা করলে ত্বকে ব্রণ এবং বলিরেখা দ্রুত দেখা দেয়। মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম আপনার রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে ত্বককে সজীব রাখে।

চিনি ও ভাজাপোড়া বর্জন অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে ফেলে  ত্বক বুড়িয়ে যায়। আসলেই  কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?  ত্বকউজ্জল ও সতেজ  রাখা কেবল দামি প্রসাধনী ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইল এখানে বড় ভূমিকা পালন করে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে ভেতর থেকে শরীর সুস্থ থাকলে তার প্রতিফলন তকে ফুটে ওঠে।

বিশ্বখ্যাত তারকাদের  রুপের রহস্য 

​আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, বিশ্ব বিখ্যাত তারক গ্ল্যামারাস লুক বা পর্দার পেছনের রূপের রহস্য নিয়ে আমাদের সবার মনে কৌতুহল দেখা । হলিউড বা বলিউডের তারকাদের উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য জানতে চাইলে তারা প্রথমেই "প্রচুর পানি পান" করার কথা বলেন। কেন? কারণ হাইড্রেটেড থাকলে মেকআপ ত্বকে ভালোভাবে বসে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। মডেলরা শুটিংয়ের আগে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে লিকুইড ডায়েটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তারকাদের রহস্য কোন যাদুকরী ক্রিম নয় বরং শৃঙ্খলা। নিয়ম মেনে খাওয়া , পর্যাপ্ত পানি পান করার, সঠিক ঘুম এবং পেশাদার ত্বকের যত্ন এই সবকিছু মিলেই তারা দীর্ঘকাল নিজেদের রূপ ধরে রাখতে পারেন। বিরামহীন শুটিং এর মাঝেও তারকারা ঘুমের ব্যাপারে আপোষ করে না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বকের ক্লান্তি ভাব ফুটে ওঠে তাই তারা বিউটি স্লিপ বা গভীর ঘুমের দিকে বিশেষ নজরদের যাতে শরীরের কোষগুলো দ্রুত সেরে উঠতে পারে ।

হাইড্রেটেড থাকা বা সুস্থতা ও সৌন্দর্যের আসল চাবিকাঠি

সাধারণ মানুষের জন্য ২.৫ থেকে ৩ লিটার। তবে যারা বেশি পরিশ্রম করেন বা রোদে থাকেন, তাদের ৪ লিটার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত পানি পান করলে কি কোনো ক্ষতি হয়?  হ্যাঁ, অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে ।  তাই পিপাসা অনুযায়ী পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পানি খেলে কি ব্রণের দাগ দূর হয়?  সরাসরি না হলেও, পানি রক্ত পরিষ্কার রাখে যা নতুন ব্রণ হওয়া আটকায় এবং ধীরে ধীরে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।আসলেই কি পানি খেলে তখন ফর্সা হয়? আমাদের শরীরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই পানি ।

তাই সুস্থ থাকা এবং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা। শরীরে পানি ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো হাইড্রেশন। সুস্থ থাকতে আমরা কত কিছুই না করি।  দামি ডায়েট চাট অনুসরণ করি,  ব্যায়াম করি বা দামি স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করি। কিন্তু এই সবকিছুর ফিরে আমরা সবচেয়ে সহজ বিষয়টি ভুলে যাই আর তা হলো সঠিক পরিমাণের পানি পান করা। পর্যাপ্ত পানি থাকলে তা ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

শরীরের ভেতর থেকে পরিষ্কার করার সহজ উপায়

আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়? সারাদিন আমরা যা খাই বা যে পরিবেশে থাকি তাতে শরীরের নানা রকম ক্ষতিকর টক্সিন জমে। পানি এ বিষাক্ত পদার্থ গুলোকে ঘাম এবং প্রসবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। শরীর যখন ভেতর থেকে পরিষ্কার থাকে, তখন ব্রণ বা ফুসকুড়ি , সমস্যা ও অনেক কমে যায় । শরীরে পানির সামান্য অভাব হলেও আমরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং মাথা ব্যাথার মত সমস্যা দেখা যায়।
পর্যাপ্ত পানি পান করলেই রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। এতে সারাদিন কাজের মনোযোগ থাকে এবং শরীরের সতেজ ও অনুভূত হয় সুস্থ থাকার জন্য কেবল বাহের থেকে পরিষ্কার থাকা যথেষ্ট নয়, শরীরের ভেতরটাকেও মাঝে মাঝে পরিষ্কার বা ডিটক্স করার প্রয়োজন রয়েছে । শরীর থেকে বিষাক্ত বের করে দিলে আপনি যেমন হালকা অনুভব করবেন, তেমনি আপনার ত্বক এবং স্বাস্থ্য হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত।

কেন আমরা ভাবি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?

আপনি যখন পানি পর্যাপ্ত পান করবেন তখন আপনার ত্বকের নিচে পরিবর্তনগুলো এমনি এমনি চলে আসবে। যা আপনাকে দেখতে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। পানি খাওয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় পানি শরীরে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দেয। এতে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকের ব্রণ বা ফুসকুড়ি কমে। শরীর ডিহাইডেট বা পানি শূন্য থাকলে ত্বক রুক্ষ, খসখসে এবং কালচে দেখায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বক ভেতর থেকে টানটান ও সতেজ থাকে।

আর্দ্রত ত্বক আলোর প্রতিফলন ভালোভাবে করতে পারে, যার ফলে ত্বককে বেশি গ্লোইংবা উজ্জ্বল দেখায়। এই উজ্জ্বলতাকেই অনেকে ভুল করে ফর্সা হওয়া মনে করে । আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়? আমাদের অনেকের ধারণা প্রচুর পানি পান করলেই গায়ের রং কয়েক শেড পরিষ্কার হয়ে যাবে। আসলে পানি কোন ম্যাজিক বা লিকুইড নয় যা মেলানিনের পরিমাণ কমিয়ে আপনাকে ফর্সা করে দিবে। তবে কেন মানুষ এমনটা বিশ্বা করে।

শেষ কথাঃ আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়?

আসলেই কি পানি খেলে ত্বক ফর্সা হয়​? ত্বক ফর্সা করা কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী যত্নের ফল। পানি আপনার শরীরের ইঞ্জিনকে সচল রাখে, আর সেই সচলতার প্রতিফলন ঘটে আপনার ত্বকে। আপনি যখন পর্যাপ্ত পানি পান করবেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলবেন, তখন আপনার ত্বক স্বাভাবিকভাবেই তার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ফিরে পাবে। মনে রাখবেন, সুস্থ ত্বকই প্রকৃত সুন্দর ত্বক। পানি খেলে গায়ের রং ফর্সা হয় না। 

আপনার জন্মগত গায়ের রং পানি খেয়ে বদলে ফেলার সম্ভাব নয়। তবে পানি পানির সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতার একটি গভীর সম্পর্ক আছে। পানি কোন ফেয়ারনেস ক্রিম। যে এটি আপনার গায়ের রং বদলে দিবে। কিন্তু সুস্থ, দাগ হীন এবং সতেজ ত্বকের জন্য পানি হল পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা এবং কার্যকর ওষুধ।, পরিষ্কার ও সুস্থ ত্বকই আসল সৌন্দর্যকে আর পানি সেই সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url