প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করার উপায়

 

ঘরে বসে আয় করার উপাই এই বিষয়টি সব থেকে আকর্ষণীয় বিষয় হয় উঠেছে। এই পেশার মাধমে মানুস ঘরে বসে সপ্তাহে সপ্তাহে আয় করতে চায়। প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব যদি ঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করা হয়।



ইন্টারনেট এর মাধমে আয় করার অনেক মাধ্যম আছে। যেমন-কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং, গ্রাফিক্সডিজাইন, ভিডিও বা ফটো এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ই-কমার্স ব্যবসা, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ইত্যাদি কাজ করেও আয় করা যাই। ডিজিটাল পোস্টার তৈরি করেও আপনি প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করার কয়েকটি উপায় নিচে দেওয়া হয়েছেঃ

পোস্ট সুচিপত্রঃ সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয়

কন্টেন্ট রাইটিং

কন্টেন্ট রাইটিং হলো বর্তমানে অনলাইন আয়ের সবচেয়ে স্থিতিশীল উপায়। কন্টেন্ট রাইটিং দ্বারা মানুষ তার নিজের প্রতিভা কাজে লাগিয়ে টাকা আয় করতে পারে। প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা আয় করতে হলে আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০-১৫০০ শব্দের কন্টেন্ট লিখতে হবে। আরো অনেক অনলাইনে আয় করার মাধ্যম যেমন অনলাইন কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে সপ্তাহে ৪০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। 

গেম খেলে বা ঘর থেকে জিনিসপত্র বেঁচেও ঘরে বসে প্রতি সপ্তাহে আয় করারও সুযোগ রয়েছে। সঠিক পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও সময়ের মাধ্যমেও আয়  করা সম্ভব। আপনি যত বেশি কাজ করবেন ও সময় দিবেন, আপনার তত বেশি আয় বৃদ্ধি পাবে। 

কাজের ধরনসমূহ:

১. ব্লগ পোস্ট:বিভিন্ন তথ্যমূলক বা টিউটোরিয়াল আর্টিকেল। 

টিউটোরিয়াল বা  আর্টিকেলের গঠন ও টিউটোরিয়াল পোস্টের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠককে ধাপে ধাপে কোনো কাজ শেখানো। আকর্ষণীয় শিরোনাম ও শিরোনামে স্পষ্ট থাকতে হবে। যেমন: "৫ মিনিটে প্রফেশনাল লোগো তৈরির সহজ উপায়। 

কেন এই কাজটি শেখা জরুরি বা এই কাজটি করলে কী লাভ হবে তা সংক্ষেপে জানুন। প্রয়োজনীয় কাজটির জন্য কী কী টুলস, সফটওয়্যার বা জিনিসের প্রয়োজন তার একটি লিস্ট করুন। ধাপ-ভিত্তিক বর্ণনা ও প্রতিটি কাজকে ১, ২, ৩ এভাবে নম্বর দিয়ে ছোট ছোট প্যারাগ্রাফে ভাগ  উচিত।

সাম্প্রতিক দুনিয়ায় ৫টি বড় পরিবর্তন ও প্রযুক্তির। 

সঠিকভাবে আর্টিকেল লেখার ৫টি নিয়ম।

সহজ ভাষা, কঠিন বা জটিল শব্দ এড়িয়ে চলুন। এমনভাবে লিখুন যেন একজন ১০ বছরের শিশুও বুঝতে পারে। সঠিক তথ্যের উৎস কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য দিলে সেটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নেওয়া কি না যাচাই করে নিন। ছবি ও ভিডিও শুধু লেখা না দিয়ে বিভিন্ন স্ক্রিনশট, ইনফোগ্রাফিক বা ভিডিও যুক্ত করুন। কল টু অ্যাকশন লেখার শেষে পাঠককে কোনো প্রশ্ন করুন বা তাদের মতামত কমেন্টে জানাতে বলুন।

    ২. এসইও কনটেন্ট সুন্দর করে লেখার নিয়ম।

    এসইও কনটেন্ট রাইটিং মানে শুধু সুন্দর করে লেখা নয়, বরং এমনভাবে লেখা যেন সার্চ ইঞ্জিন আপনার লেখাটি সহজে খুঁজে পায় এবং পাঠকরাও তা পড়ে উপকার পায়। একজন দক্ষ এসইও রাইটার হতে হলে আপনাকে টেকনিক্যাল বিষয় এবং সৃজনশীলতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। এস.ই.ও কনটেন্ট সুন্দর করে লেখার উপায় হলো কি-ওয়ার্ড রিসার্চ কী লিখে সার্চ করছে? লেখার আগে আপনাকে জানতে হবে কি-ওয়ার্ড বিষয়টি কি? 

    একটি এসইও ফ্রেন্ডলি পোস্টের কাঠামো কেমন হওয়া উচিত।

    মূল শিরোনামে অবশ্যই প্রাইমারি কি-ওয়ার্ড রাখুন।। প্রতিটি পোস্ট ইউনিকোড ফরমেট এ চলিত ভাষায় লিখতে হবে । প্রতিটি পোস্টের টাইটেল ৫/৮ শব্দের মধ্যে লিখতে হবে।প্রতিটি পোস্টের পারমালিং ইংরেজি কিওয়ার্ড এর এক শব্দের মধ্যে হতে হবে। ইভেন্ট বা অকেশন ভিত্তিক কন্টেন্ট এর ক্ষেত্রে উক্ত ইভেন্ট বা অকেশন কমপক্ষে ৩০ দিন পূর্বে আর্টিকেল লিখে পাবলিশ করতে হবে।

    ব্লক পোস্টে আপলোড কৃত প্রতিটি ছবি ডাব্লিউই বিপি ৫০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
    কখনো কোন কনটেন্ট হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল, মাইক্রোসফট, নোটপ্যাড থেকে কপি করে ব্লগার পোস্টে নেওয়া যাবে না। এর মধ্যে কখনো সাল উল্লেখ করা যাবে না

    কনটেন্ট অপ্টিমাইজেশনের কৌশল:

    কি-ওয়ার্ড ডেনসিটিঃ জোর করে কি-ওয়ার্ড ঢোকাবেন না। ১০০০ শব্দের জন্য ৩-৫ বার মূল কি-ওয়ার্ড যথেষ্ট। |ইন্টারনাল লিঙ্কিংঃ আপনার ওয়েবসাইটের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পোস্টের লিংক বর্তমান লেখায় দিন। |এক্সটারনাল লিঙ্কিংঃ তথ্য প্রমাণের জন্য নামকরা বা বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করুন। |ছবির অল্ট টেক্সটঃ  আর্টিকেলে ব্যবহৃত ছবির পেছনে একটি ছোট ডেসক্রিপশন দিন যেন গুগল বুঝতে পারে ছবিটি কিসের। 

    পাঠককে ধরে রাখতে, গুগল দেখে পাঠক আপনার সাইটে কতক্ষণ থাকছে।  

    ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করুন (সর্বোচ্চ ৩-৪ লাইন)। সহজ এবং সরাসরি কথা বলুন।
    বুলেট পয়েন্ট এবং নাম্বারিং ব্যবহার করুন। আকর্ষণীয় বিভিন্ন শিক্ষানীয় বিষয় তুলে ধরুন। পাঠক কোন বিষয়ে জানতে চাচ্ছে সে বিষয়ে তুলে ধরুন। পাঠককে কোনো প্রশ্ন করুন বা তাদের মতামত কমেন্টে জানাতে বলুন।

    কপিরাইটিং: বিজ্ঞাপনের জন্য আকর্ষণীয় লাইন লেখা।

    কপিরাইটিংয়ের মূল মন্ত্র হলো পণ্য বিক্রি করা নয়, বরং মানুষের সমস্যার সমাধান বা স্বপ্নের কথা বলা। বিজ্ঞাপনের জন্য আকর্ষণীয় লাইন, নির্ভর করে আপনি কী বিক্রি করছেন এবং আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা তার ওপর। আপনার বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু কার্যকর উদাহরণ  দেওয়া হলোঃ

    সরাসরি সমাধানের ওপর জোর দেওয়ামানুষের সমস্যার কথা বলে সাথে সাথেই তার সমাধান দিন।
    উদাহরণঃ "সারাদিনের ক্লান্তি শেষ হোক এক কাপ প্রিমিয়াম কফিতে। উদাহরণঃ "ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তা? ৭ দিনেই পান দাগহীন উজ্জ্বল ত্বক।"কৌতূহল জাগানো এমন কিছু বলুন যা পাঠককে পুরো বিজ্ঞাপনটি পড়তে বাধ্য করে।

    উদাহরণঃ "জানেন কি, কেন আপনার ব্যবসার গ্রোথ আটকে আছে? উদাহরণঃ "এই একটি গোপন ট্রিক আপনার সেভিংস দ্বিগুণ করে দিতে পারে।"ভ্যালু বা অফার ফোকাসড
    সরাসরি লাভ বা সাশ্রয়ের কথা বলুন। উদাহরণ: "একবার কিনলে নিশ্চিন্ত আজীবন, এখনই অর্ডার করুন ৫০% ছাড়ে! উদাহরণঃ "একটি কিনলে একটি ফ্রি! স্টক শেষ হওয়ার আগেই লুফে নিন।" আবেগকে স্পর্শ করা।

    মানুষ যুক্তি দিয়ে বিচার করলেও, আবেগ দিয়ে কেনে।

    উদাহরণঃ "আপনার সন্তানের আগামীর সুরক্ষায় আমরা আছি আপনার পাশে।"উদাহরণ: "পুরানো স্মৃতিগুলো আজই ফ্রেমবন্দি করুন একদম নতুনের মতো। "ভাষাঃ সহজ ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন। | বোল্ড টেক্সটঃ মূল অফার বা সমস্যার অংশটি বোল্ড করে দিন। 

    কল টু অ্যাকশনঃ শেষে অবশ্যই 'এখনই কিনুন' বা 'বিস্তারিত জানুন' টাইপ কিছু রাখুন। অহেতুক কথা না বাড়িয়ে সরাসরি পয়েন্টে কথা বলুন। | আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো পণ্য বা সার্ভিসের কথা বলেন (যেমনঃ ই-কমার্স, রিয়েল এস্টেট বা কোর্স).

    আয়ের হিসাব রাখার ৩টি সহজ উপায়:

    আয়ের হিসাব রাখা যেকোনো ব্যবসা বা ব্যক্তিগত আর্থিক উন্নতির প্রথম ধাপ। আয়ের হিসাব সহজভাবে পরিচালনা করার নিয়মঃ মোবাইল অ্যাপ: বর্তমানে হিসাব রাখার জন্য অনেক সহজ বাংলা অ্যাপ আছে। যেমনঃ 'হিসাব খাতা। এগুলো অটোমেটিক আপনার মাসিক আয়-ব্যয়ের গ্রাফ তৈরি করে দেয়।
    এক্সেল বা গুগল শিটঃ এটি পেশাদারদের জন্য সেরা। আপনি চাইলে অটোমেটিক যোগফল বের করার জন্য নিচের সূত্রটি ব্যবহার করতে পারেনঃ ম্যানুয়াল ডায়েরিঃ যদি আপনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত না হন, তবে একটি ছোট পকেট ডায়েরি সাথে রাখতে পারেন।

      আয়ের সঠিক শ্রেণীবিন্যাস প্রয়োজনীয় প্টিপস:

      আপনার আয়কে মূলত দুই ভাগে ভাগ করে হিসাব করা উচিত। স্থায়ী আয়: যেমন বেতন বা ঘর ভাড়া।অস্থায়ী আয়ঃ যেমন বোনাস, গিফট বা ফ্রিল্যান্সিং থেকে আসা টাকা।আয় আসার সাথে সাথেই লিখুনঃ দেরি করলে ছোটখাটো আয়গুলো ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।নিট ইনকামঃ হিসাব করুনঃ সব খরচ বাদ দেওয়ার পর হাতে কত থাকল, সেটাই আপনার আসল আয়।

      বকেয়া বা পাওনা হিসাব: যারা পরে টাকা দেবে, তাদের জন্য আলাদা একটি 'Pending' কলাম রাখুন আপনি যদি প্রতি শব্দের জন্য ০.৫০ টাকা রেট পান তবে ৮০০০ শব্দ লিখলে আপনার ৪০০০ টাকা পূর্ণ হবে। সপ্তাহে ৭ দিন কাজ করলে প্রতিদিন আপনাকে মাত্র ১১৪২ শব্দ লিখতে হচ্ছে, যা লিখতে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা সময় লাগে।

      ক্যানভা ও গ্রাফিক্স ডিজাইন

      ক্যানভা বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য একটি ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম। গ্রাফিক্স ডিজাইনের দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল শেখার প্রক্রিয়াকে এটি অনেক সহজ করে দিয়েছে। আপনার যদি প্রতিভা থাকে, তবে ক্যানভা ব্যবহার করে প্রফেশনাল মানের ডিজাইন তৈরি এবং তা থেকে ভালো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

      আপনার যদি ভারী গ্রাফিক্স ডিজাইনিং সফটওয়্যার। যেমন অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর। চালানোর মতো কম্পিউটার না থাকে, তবে ক্যানভা  আপনার জন্য উপযোগী। 

      ক্যানভা কেন গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য সেরা?

      প্রথাগত সফটওয়্যার যেমন অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর বা ফটোশপ শিখতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ ফিচারঃ খুব সহজেই এলিমেন্ট সাজানো যায়। রেডিমেড টেমপ্লেটঃ হাজার হাজার তৈরি করা ডিজাইন থাকে যা কাস্টমাইজ করা সম্ভব।সহজ ইন্টারফেসঃ ডিজাইন সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকলেই কাজ শুরু করা যায়।

      ক্যানভা দিয়ে কী কী ডিজাইন করা যায়

      প্রতিভা থাকলে ক্যানভা দিয়ে আপনি প্রায় সব ধরণের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন।সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টঃ ফেসবুক ব্যানার, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল।মার্কেটিংম্যাটেরিয়ালঃ বিজনেস কার্ড, ফ্লায়ার, ব্রোশিওর, লোগো।প্রেজেন্টেশনঃ প্রফেশনাল স্লাইড ডিজাইন।ভিডিও এডিটিং ছোটসোশ্যাল মিডিয়া অ্যাড বা অ্যানিমেশন।

      আয়ের প্রধান মাধ্যমসমূহঃ ফ্রিল্যান্সিং এবং মার্কেটপ্লেস

      ফাইবার, আপওয়ার্ক বা ফিল্যানসার এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপনি আপনার সার্ভিস বিক্রি করতে পারেন। ছোট লোগো ডিজাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য প্রচুর ক্লায়েন্ট পাওয়া যায় যারা ক্যানভা ডিজাইন গ্রহণ করে। ক্যানভা কন্ট্রিবিউটর বা এলিমেন্ট ডিজাইন আপনি যদি নিজে ভেক্টর বা এলিমেন্ট তৈরি করতে পারেন।

      তবে ক্যানভার নিজস্ব লাইব্রেরিতে তা আপলোড করতে পারেন। যখনই কেউ আপনার এলিমেন্ট ব্যবহার করবে, আপনি সেখান থেকে রয়্যালটি পাবেন। ডিজিটাল পণ্য বিক্রি নিজের ফেসবুক পেজে আপনি টি-শার্ট ডিজাইন, মোটিভিশনাল পোস্টার বা প্ল্যানার ডিজাইন করে বিক্রি করতে পারেন।

      সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট অনেক কোম্পানি বা ইনফ্লুয়েন্সার তাদের পেজ সাজানোর জন্য লোক খোঁজে। আপনি তাদের মাসিক চুক্তিতে কনটেন্ট তৈরি করে দিতে পারেন।

      দক্ষতা বৃদ্ধির টিপস

      শুধু টেমপ্লেট ব্যবহার করলেই প্রফেশনাল হওয়া যায় না। ভালো ডিজাইনার হতে হলে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। কালার সাইকোলজিঃ কোন রঙের সাথে কোন রঙ ভালো দেখায় তা বোঝা। টাইপোগ্রাফিঃ সঠিক ফন্ট নির্বাচন করা।হোয়াইট স্পেসঃ ডিজাইনের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা যাতে তা ঘিঞ্জি না লাগে।

      সেবা দেওয়ার উপায়:

      ইউটিউব থাম্বনেইল: একজন প্রফেশনাল থাম্বনেইল ডিজাইনার একটি ডিজাইনের জন্য ২০০-৫০০ টাকা চার্জ করেন।  সপ্তাহে ১০টি থাম্বনেইল বানালেই আপনার টার্গেট পূরণ হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকিটঃ ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের জন্য পোস্ট ডিজাইন। বিজনেস কার্ডঃ ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল ভিজিটিং কার্ড।

      মার্কেটপ্লেস:

      ফেসবুকের 'ফ্রীল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনার বাংলাদেশ' গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য দেশি ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া ফাইবার এ ছোট ছোট গিগ খুলে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা সম্ভব। ডিজিটাল মার্কেটিং ও সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট অনেক ছোট ব্যবসা বা শপ আছে যাদের পেজ চালানোর সময় নেই। আপনি তাদের হয়ে পোস্ট করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া এবং অ্যাড রান করার কাজ করতে পারেন।

      কাজের তালিকা নির্ধারণ করে আয় আসবে কিভাবে?

      প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট শিডিউল করা।গ্রাহকদের কমেন্ট ও ইনবক্সের রিপ্লাই দেওয়া।পণ্য বা সেবার প্রচারের জন্য গ্রুপ শেয়ারিং করা। একটি পেজ ম্যানেজমেন্টের জন্য সাধারণত মাসে ৫০০০-৮০০০ টাকা নেওয়া হয়। আপনি যদি একসাথে ৩-৪টি ছোট পেজ হ্যান্ডেল করেন, তবে মাসে ২০,০০০+ টাকা অর্থাৎ সপ্তাহে ৫০০০ টাকা অনায়াসেই আসবে।

      রিসেলিং: জিরো ইনভেস্টমেন্ট ব্যবসা

      পিডিএফ থেকে এক্সেলে কনভার্ট করবেন। ইন্টারনেট থেকে ইমেল অ্যাড্রেস খুঁজে বের করবেন। ক্যাপচা এন্ট্রি বা ছোট সার্ভে পূরণ করবেন। আপনার নিজের কোনো পণ্য কেনার দরকার নেই। আপনি শুধু পাইকারি বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করবেন। 

      আয় করার উপায়

      'সপ আপ রিসেল বা মেসো' এর মতো অ্যাপে সাইন আপ করুন।তাদের ক্যাটালগ থেকে শাড়ি, ঘড়ি বা গ্যাজেটের ছবি আপনার ফেসবুক প্রোফাইল বা গ্রুপে শেয়ার করুন। ক্রেতা যখন অর্ডার দেবে, আপনি পাইকারি দামের সাথে আপনার লাভ (যেমন ৫০০ টাকা) যোগ করে অর্ডার কনফার্ম করবেন।কোম্পানি পণ্য ডেলিভারি দেবে এবং আপনার কমিশন আপনার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।

      টার্গেট পূরণ

      সপ্তাহে মাত্র ৮টি পণ্য বিক্রি করতে পারলেই (৫০০ টাকা লাভে) আপনার ৪০০০ টাকা নিশ্চিত।
      ডাটা এন্ট্রি এবং অনলাইন সার্ভেএটি সবচেয়ে সহজ কিন্তু ধৈর্যের কাজ। ডাটা এন্ট্রি মানে হলো অগোছালো তথ্যকে এক্সেল বা গুগল শিটে সাজিয়ে রাখা।

      বিশেষ সতর্কতা

      ডাটা এন্ট্রির নামে অনেক স্ক্যাম সাইট আছে যারা রেজিস্ট্রেশন ফি চায়। মনে রাখবেন, কখনও কাজ পাওয়ার জন্য টাকা দেবেন না। জেনুইন সাইটগুলো হলো ফিল্যানসার.কম এবং গুরু কম।

      সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করার জন্য, শুরু করবেন যেভাবে

      ক্যানভায় একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং টুলগুলোর সাথে পরিচিত হোন।নিজের একটি পোর্টফোলিওতৈরি করুন (কমপক্ষে ১০-১৫টি সেরা ডিজাইন)।ছোট ছোট লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ দিয়ে শুরু করুন।আপনার দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ডিজাইন শেয়ার করুন।

      ইউটিউব এবং ফেসবুক ভিডিও (শর্ট কন্টেন্ট)

      আপনার দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ডিজাইন শেয়ার করুন। ইউটিউব এবং ফেসবুক ভিডিও। দীর্ঘ ভিডিও বানানোর চেয়ে এখন ১ মিনিটের 'শর্টস' বা 'রিলস' বানানো সহজ এবং দ্রুত ভিউ পাওয়া যায়।

      ইউটিউব শর্টস এবং ফেসবুক রিলস বর্তমান সময়ে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার এবং আয় করার সবথেকে সহজ উপায়। বড় ভিডিওর তুলনায় শর্ট কন্টেন্ট দ্রুত ভাইরাল হয় কারণ এর 'ওয়াচ টাইম' বেশি থাকে এবং মানুষ স্ক্রল করতে করতে এগুলো বেশি দেখে।

      ভিডিও বানাবেন কী নিয়ে?

      রান্না বা রেসিপি, মোবাইল অ্যাপ রিভিউ।, শিক্ষামূলক ছোট তথ্য।ভ্লগিং (নিজের প্রতিদিনের কাজ)।ফেসবুক রিলস থেকে এখন বোনাস এবং অ্যাডস অন রিলস এর মাধ্যমে ভালো আয় হচ্ছে। আপনার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে এক সপ্তাহেই ৪০০০ টাকার বেশি আয় হতে পারে।

      ক্যানভা ব্যবহার করে এই শর্ট কন্টেন্টগুলো কীভাবে প্রফেশনালভাবে তৈরি করবেন?

      ভিডিওর মাপ ও ফরম্যাটইউটিউব এবং ফেসবুক উভয়ের জন্যই ভিডিওর মাপ হতে হবে উল্লম্ব। বরেজোলিউশনঃ ১০৮০x১৯২০ পিক্সেল। অ্যাসপেক্ট রেশিওঃ ৯ঃ১৬। সময়সীমাঃ সাধারণত ১৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড (ভাইরাল হওয়ার জন্য ৩০-৪০ সেকেন্ড আদর্শ)।

      ক্যানভা দিয়ে শর্ট ভিডিও তৈরির নিয়ম

      ক্যানভায় ভিডিও এডিটিং এখন অনেক উন্নত। আপনি যা যা করতে পারেন, মোবাইল ভিডিও টেমপ্লেট, ক্যানভায় 'মোবাইল ভিডিও' লিখে সার্চ দিলে হাজার হাজার রেডিমেড টেমপ্লেট পাবেন। স্টক ফুটেজ, আপনার যদি নিজের ভিডিও না থাকে।

      তবে ক্যানভার লাইব্রেরি থেকে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও ফুটেজ নিতে পারেন। অ্যানিমেশন, টেক্সট এবং এলিমেন্টগুলোকে অ্যানিমেট করতে পারেন যাতে দর্শকদের নজর কাড়ে। অডিও লাইব্রেরি, ট্রেন্ডিং মিউজিক বা ভয়েসওভার যুক্ত করার সুবিধা।

      আয়ের সুযোগ (মনিটাইজেশন)

      শর্ট কন্টেন্ট থেকে কয়েকভাবে আয় করা যায়, ডায়রেক মনিটাইজেশন, ইউটিউব শর্টস ফান্ড বা অ্যাড রেভিনিউ এবং ফেসবুক রিলস বোনাস। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ভিডিওর ডেসক্রিপশন বা কমেন্টে পণ্যের লিংক দিয়ে কমিশন আয়। ব্র্যান্ড প্রমোশন, কোনো ব্র্যান্ডের ছোট রিভিউ ভিডিও তৈরি করে দেওয়া। কনটেন্ট ক্রিয়েশন সার্ভিস, ফ্রিল্যান্সিং সাইটে অন্যদের জন্য রিলস বা শর্টস বানিয়ে দিয়ে আয়।

      আয়ের উপায়

      আপনার যদি একটি ফেসবুক গ্রুপ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকে, সেখানে ভালো কোনো গ্যাজেটের রিভিউ দিন এবং ডেসক্রিপশনে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক দিয়ে দিন। কেউ ওই লিংক থেকে কিনলে আপনি ৫% থেকে ১০% কমিশন পাবেন।

      মোবাইল অ্যাপ টেস্টিং ও রিভিউ

      অনেক কোম্পানি তাদের নতুন অ্যাপ মার্কেটে ছাড়ার আগে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স জানতে চায়।ইউজার টেস্টিং.কম, এখানে একটি অ্যাপ টেস্ট করলে ১০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। সপ্তাহে ৪টি টেস্ট করতে পারলেই আপনার ৪০০০ টাকা হয়ে যাবে। তবে এর জন্য ইংরেজি বলা এবং বোঝার দক্ষতা প্রয়োজন।

      প্রতি সপ্তাহে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করার উপায়-শেষ কথা

      সপ্তাহে ৪০০০ টাকা বা মাসে প্রায় ১৬,০০০ টাকা আয় করা বর্তমান সময়ে খুব একটা কঠিন কাজ নয়, যদি আপনার মাঝে সঠিক দক্ষতা এবং ধৈর্য থাকে। এটি কেবল কিছু বাড়তি টাকা উপার্জন নয়, বরং নিজের আত্মবিশ্বাসকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া।

      মনে রাখবেন, কোনো কাজই ছোট নয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করুন, টিউশনি করুন কিংবা ছোট কোনো অনলাইন ব্যবসা—শুরুটা সবসময় একটু চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কিন্তু একবার যদি আপনি কাজের ছন্দ ধরে ফেলতে পারেন এবং আপনার সেবার মান বজায় রাখেন, তবে এই ৪০০০ টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

      সাফল্যের চাবিকাঠি হলো আজই শুরু করা। ছোট ছোট পদক্ষেপই একদিন বড় অর্জনে রূপ নেয়। তাই নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখুন, নতুন কিছু শিখতে দ্বিধা করবেন না এবং সততার সাথে পরিশ্রম করে যান। আপনার এই প্রচেষ্টাই আপনার আর্থিক স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করবে। রান্না ও গল্পকথা  

      এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

      পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
      এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
      মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

      রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

      comment url