বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে ডিমান্ডেবল সেক্টর কোনটি
Ranna O Golpokotha
২৬ ফেব, ২০২৬
ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিংকরে কি আয় করতে চান? তাহলে এ ব্লগটি
আপনার জন্য। সরকারি চাকরি পাওয়া খুবই কঠিন কাজ। তো আজকের এই ডিজিটাল
যুগে ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি মুক্ত পেশা যেখানে আপনি ঘরে বসে প্রচুর
টাকা আয় করতে পারেন। এই পেশা ধীরে ধীরে চাকরির বিকল্প হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগতটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। ২০২৬ সালের যদি আমরা
ডিমান্ডেবল সেক্টর নিয়ে কথা বলি, তবে দেখা যাবে যে, নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে
লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করাই হলো ফিন্যান্সিং। যেখানে আপনি ঘরে বসে নিজে
স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং কি ও এটি কাজ করে
নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করাই হলো ফিন্যান্সিং। ডিজিটাল
মার্কেটিং নিয়ে প্রচুর ধারণা রয়েছে সেক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে
কেউ যদি হায়ার করে । আর আপনি যদি অর্থের বিনিময়ে বাড়িতে বসে সে কাজটি করে দেন,
সেটাই হলো ফ্রিল্যান্সিং। আপনি নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ও পরিশ্রম করে
ক্লায়েন্টদের জন্য যে কাজ করেন এবং এই কাজের জন্য ক্লায়েন্ট আপনাকে টাকা দেয় আর
এর সম্পূর্ণ প্রসেস কে ফ্রিল্যান্সিং বলে।
ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি মুক্ত
পেশা যেখানে একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের ইচ্ছামত কাজ করতে পারে। কোন
কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত না হয়েও সে নিজের ঘরে বসে কাজ করতে পারে । নিজের দক্ষতাকে
কাজে লাগিয়ে এবং নিজের মেধা কে কাজে লাগিয়ে সে অনলাইনে ইনকাম করে তাকে
ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং জগতের সবচেয়ে ডিমান্ডেবল কাজ হচ্ছে ডিজিটাল
মার্কেটিং যা করে ঘরে বসে নিজে আয় করা যায় ডিজিটাল মার্কেটিং একটি স্বাধীন পেশা
করে তাদের ব্যবসার উন্নতি করতে পারে।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে ডিমান্ডেবল সেক্টর
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর দুনিয়া এ সবচেয়ে বেশি চাহিদার কাজটি হচ্ছে ডিজিটাল
মার্কেটিং। প্রতিনিয়ত অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা ঔ কাজ বেড়েই চলেছে, ছোট বড়
সব ধরনের কোম্পানি চাচ্ছে এখন তাদের পণ্য সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষকে
দেখাতে। তাদের প্রচারনার করার জন্য দরকার একজন
ডিজিটাল মার্কেটার।
ফ্রিল্যান্সিং এখন আর কেবল বাড়তি আয়ের পথ নয়, বরং এটি অনেক মেধাবী তরুণের জন্য
মূল ক্যারিয়ার। তবে সঠিক সেক্টর নির্বাচন না করতে পারলে এই প্রতিযোগিতামূলক
বাজারে টিকে থাকা কঠিন।.২০২৬ সালে বাংলাদেশ সহ বিশ্ব বাজারে একটি অন্যতম
ডিমান্ডেবল সেক্টর ব্যবসা প্রচার শুরু করে পণ্য বিক্রির সবকিছু এখন অনলাইনে
নির্ভর হয়ে পড়েছে।
কোন অভিজ্ঞতা ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপায়
ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত
জনপ্রি। অনেকে মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে হয়তো অনেক বড় বড় ডিগ্রি নিতে
হয়। বছরের পর বছর অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সত্যি কথা হল আপনি আজ থেকে আপনার
হাতে থাকা মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাত্রা শুরু করতে পারেন।
অভিজ্ঞতা না থাকলেও আমাদের কোন না কোন কাজ ভালো লাগে। ফ্রিল্যান্সিং জগতে অনেক
কাজ আছে যা শিখতে খুব বেশি সময় লাগে না । এবং অনেক কাজ আছে শিখতে অনেক সময়
লাগে। একেবারে কিছু না জেনে মাঠে নামলে কাজ পাওয়া কঠিন। তাই অন্তত ১৫ থেকে ২০
দিন সময় নিয়ে যে কোন একটি সহজ কাজ শিখুন ইউটিউবে সার্চ দিলে আপনি ফ্রিতে
প্রচুর টিউটোরিয়াল দেখতে পাবে। সেখান থেকে আপনি আপনার চাহিদা অনুযায়ী কাজ
শিখতে পারবেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে ফ্রিল্যান্সিং করার সহজ নিয়ম
ডিজিটাল মার্কেটিং শব্দটা শুনলে অনেকেই আপনারা মনে করেন এটা বোধহয় অনেক কঠিন
কোন টেকনিক্যাল কাজ। কিন্তু সহজ ভাষায় বলতে গেলে অনলাইনে মাধ্যমে কোন পণ্য।
কেনাবেচার প্রচারণা করা হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। আগে মানুষ মাইকিং করে বা
লিফলেট বিলিয়ে প্রচার করতো এখন মানুষ ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলের মাধ্যমে
।
ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে কি সেটা সহজ কথায় যদি আমরা বলতে যায়।মনে করেন,
আপনার পরিচিত কেউ অনলাইনে শাড়ি বিক্রি করে, আপনি যদি ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে
সেই শাড়ি ছবি সুন্দর করে পোস্ট করেন এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। তবে আপনি
ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিনিময়ে আপনি কমিশন বা পারিশ্রমিক নিতে পারবেন
। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এই কাজটাই যখন বড় ভাবে করা হয়, তখন তাকে
ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।
সহজ উপায়ে ঘরে বসে ইনকাম করেন এসইওর মাধ্যমে
আপনি ইন্টারনেটে কিছু লিখে সার্চ করলে দেখবেন যে কিছু ওয়েবসাইট একদম শুরুতে
আসে। যে কৌশল ব্যবহার করে কোন ওয়েবসাইট বা গুগলে প্রথম পাতা আনা
হয় তাকে বলা হয় এসইও। অভিজ্ঞতা ছাড়ায় সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করে আপনি
কিভাবে এসিওর মাধ্যমে ইনকাম করবেন সেটা আপনাকে আগে জানতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা
দিয়ে ব্লগ লিখে আপনি একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে কাজ করতে পারবেন।
সেখানে আপনার পছন্দের বিষয়ে লিখে গুগলে এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে পারবেন। এবং
অন্যের কাজ করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেক কোম্পানি বা মানুষ আছে, যাদের
ওয়েবসাইট গুগলে খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনি তাদের ওয়েবসাইড গুগলে প্রথমে
এনে দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। আপনার যদি খুব বেশি টেকনিক্যাল জ্ঞান না
থাকে তবুও আপনি কিছু কিছু বিষয় নিয়ে এসইও কাজ করতে পারবেন ।
যেমন কীওয়ার্ড রিসার্চ, অন
পেজ এসইও, ব্যাকলিংক ইত্যাদি।
কনটেন্ট রাইটিং এর উপর আয় করার সহজ নিয়ম
কনটেন্ট রাইটিং হলো কোন নির্দিষ্ট বিষয় গুছিয়ে লিখা। ইন্টারনেটে আমরা যা
পড়ি, ফেসবুকে পোস্ট করি, ব্লগে আর্টিকেল লিখি, খবরের কাগজের নিউজ বা পণ্যের
বিবরণে সবকিছুই কন্টেন্ট রাইটিং এর এই অংশ। আপনার যদি মোটামুটি শুদ্ধ করে
লেখার অভ্যাস থাকে তবে কোন ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই আপনি কন্টেন্ট রাইটিং ঘরে বসে
নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান দিয়ে রাইটিং লিখতে পারবেন।
মনে করেন একটি কোম্পানির নতুন মোবাইল ফোন বাজারে এসেছে। এখন চায় মানুষ যেন
এই ফোনের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারে। আপনি সেই ফোনের ফিচার, ক্যামেরা এবং
দাম নিয়ে সুন্দর একটি লেখা লিখে দেন, তাহলে আপনি একজন কন্টেন্ট
রাইটার। এ লিখাটি কোম্পানির লোকেরা তাদের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজে
ব্যবহার করবে এবং কাজের বিনিময়ে আপনাকে টাকা দিবে।
ফেসবুক মার্কেটিং করে মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব
ফেসবুক মার্কেটিং থেকে মাসে কত টাকা আয় করবেন সেটা সম্ভব, আপনার কাজের
দক্ষতার উপর। আপনার কাজের ধরনের উপর নির্ভর করছে আপনার ইনকামের
মাত্রা। আপনি দেশি ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করছেন না বিদেশী
ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করছেন ,তার ওপর নির্ভর করছে আপনার ইনকাম। আপনি যদি
সবেমাত্র কাজ শিখেন এবং টুকিটাকি দেশি ক্লাইন্ট বা ছোটখাটো এজেন্সির থেকে কাজ
করেন, তবে মাসে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
এ পর্যায়ে্ মূলত ফেসবুক পেজে সেটা কন্টেন্ট পোস্টিং বা ছোট বাজেটের অ্যাড
রান করা কাজ বেশি পাওয়া যায়। যদি আপনি ই-কমার্স ব্যবসার সেলস জেনারেল করে
দিতে পারেন বা বিদেশি ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করেন, তবে মাসে এক লাখ থেকে
তিন লাখ টাকা তারও বেশি আয় করা সম্ভব। অনেক প্রফেশনাল মার্কেটে এখন মাসিক
আয় হিসেবে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার চার্জ করেন।
২০২৬ সালের সেরা ডিমান্ডেবল ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর
২০২৬ সালে ফ্রিল্যান্সিং এর সবথেকে ডিমান্ডেবল সেক্টর হল ডিজিটাল মার্কেটিং।
ফ্রিল্যান্সিং জগত আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি উন্নত। ডিজিটাল মার্কেটিং এ
শুধুমাত্র ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় এখন আর যথেষ্ট নয়। কোম্পানিগুলো এখন এমন দক্ষ
মানুষ খুঁজছে, যারা কাজ করতে পারবে গুগল অ্যাড এবং ডেটা এনালিটিক্স ব্যবহার করে
সরাসরি বিক্রি বাড়িয়ে দিতে পারবে।
ইউটিউব, টিকটক এবং ফেসবুক রিলসের যুগে ভিডিও কনটেইনের চাহিদা সবচেয়ে
বেশি। বিশেষ করে শর্ট ফর্ম, ভিডিও এডিটিং এবং আকর্ষণীয় এনিমেশন বা মোশন
গ্রাফিক্সের জন্য ক্লায়েন্ট এখন অনেক বেশি টাকা খরচ করতে রাজি। ইন্টারনেটে হ্যাকিং এবং তথ্য চুরির ভয় বাড়ায় ছোট-বড় সব কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইট ও ডাটা সুরক্ষিত রাখতে দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট খুঁজছে। এটি বর্তমানে অন্যতম একটি হাই-পেইড সেক্টর।
বিদেশি মার্কেটিং ক্লায়েন্ট বাংলাদেশ কিভাবে পাবো
আধুনিক ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশে বসে বিদেশি ক্লাইন্ট পাওয়া.সম্ভব। তবে এর জন্য আপনাকে অনেক কাজ জানতে হবে এবং যখন ক্লায়েন্টরা আপনাকে নক করবে করে দেওয়ার জন্য তখন অবশ্যই আপনাকে কাজের প্রমাণ দিতে হবে। যে আপনার কতটুকু কাজ করতে পারেন। আপনাকে ভালোভাবে কাজ করা জানতে হবে।
প্রথমত ফাইবার, আপ ওয়ার্ক, গুগল এডসেন্স, ইমেইল মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইনস্টাগ্রা্ম মার্কেটিং, প্রিন্টারেস্ট মার্কেটি্ অথবা লিংকেদিন মার্কেটিং জেনে থাকেন তাহলে এসব বিষয়ে আপনার স্কিল এর ওপর ভিত্তি করে গিগ বা প্রপোজাল তৈরি করতে হবে। শুরুতে ছোট ছোট কাজ ধরে রিভিউ জমা করতে হবে। নিয়মিত একটিভ থাকলে, আপনি গুগলের মাধ্যমে কাজ খুঁজে দিতে পারবেন।
সিকিউরিটি ও ডাটা প্রটেকশন করার উপায়
বর্তমানে আধুনিক যুগে আমাদের ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক তথ্য চুরির ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে ।হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উপায়ে ডাটা চুরি করার চেষ্টা করছে তাই নিজেদের ডিজিটাল জীবন সুরক্ষিত রাখতে সাইবার সিকিউরিটি ও ডাটা প্রটেকশন আমাদের সঠিকভাবে জানতে হবে ।
যেমন সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় ভুল। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা এবং জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড এর বড় হাতের অক্ষর। বড় ও ছোট হাতের অক্ষর সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন দিয়ে আপনার একাউন্ট শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে ডিমান্ডেবল সেক্টর কোনটি-শেষ কথা
বর্তমান বাজারে কোন নির্দিষ্ট কাজে ছোট নয়। তবে টেকনোলজি সচেতন হওয়া জরুরী। আপনি ভিডিও এডিটিং করুন, গ্রাফিক ডিজাইন করুন বা ডাটা এন্ট্রি ডিজিটাল মার্কেটিং সব ক্ষেত্রে আপনাকে আধুনিক টুলস ও সফটওয়্যার এর দক্ষ হতে হবে। সহজ কথায়, যে কাজে আপনি মনোযোগ দিয়ে করতে পারবেন যে কাজে আপনার দক্ষতা অনেক বেশি সেটাই মনোযোগ দিয়ে করতে থাকবেন।
যে সেক্টরে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি ডিমান্ড থাকবে সে কাজটাই শেখার চেষ্টা করবেন এবং নিজেকে সঠিক দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে একদিন সাফল্য আপনার জীবনে আসবে। ২০২৬ সাল বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে ডিমান্ডেবল সেক্টর জগতে সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন এবং লাভজনক সেক্টর হল ডিজিটাল মার্কেটিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডাটা সায়েন্স তবে আপনি একজন সাধারণ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান সে বিষয়ের উপর সঠিক দক্ষতায় মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকবেন। সফলতা একদিন আপনার কাছে অবশ্যই ফিরে আসবে।
রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url