ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার সহজ উপায়। ছাত্র জীবন মানেই তো
পকেট মানে সীমিত বাজেট আর এক গুচ্ছ না মেটা স্বপ্ন। তবে এই সময় যদি একটু বুদ্ধি
কাটিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমানো আর সঠিক জায়গায় তা বিনিয়োগ করার কৌশল শিখে
ফেলা যায়, তবে ভবিষ্যতে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের আর কোন বাধাই থাকবে না।
সত্যি বলতে, টাকা জমানো কিংবা বিনিয়োগের জন্য অনেক বড় অংকের মূলধনের প্রয়োজন
হয় না। দরকার শুধু সঠিক ইচ্ছা আর সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনার। প্রতিদিনের ছোট
কোন খরচ বাজিয়ে কিংবা নিজের জমানো সামান্য পকেট মানি দিয়েই শুরু হতে পারে আপনার
প্রথম বড় চায় সঞ্চয়
পোস্ট সূচিপত্রঃ ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়
- ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়
- ছাত্র বলেই কি পকেট খালি থাকবে?
- পকেটমানি বাঁচিয়ে ভবিষ্যতের ফান্ড গড়ুন!
- জমানো টাকায় ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন পূরণ করুন।
- আজই অপ্রয়োজনীয় ছোটখাটো খরচ কমান!
- ছাত্রবয়সেই তৈরি করুন জরুরি আপদকালীন ফান্ড!
- পকেটমানির সঠিক ব্যবহারে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন!
- পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম আয় শুরু করুন!
- উপার্জনের আগেই শেখা উচিত সঞ্চয়ের কৌশল!
- ছাত্র অবস্থায় শেখা সঞ্চয়ই আসল সম্পদ!
- জমানো টাকা দিয়ে প্রথম ডিপিএস খুলুন!
- শেষ কথাঃ ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়। কলেজ বা ভার্সিটি বয়সে হাত
খরচের টাকা দিয়ে মাস চালানো যেখানে কঠিন, সেখানে সঞ্চয় বা বিনিয়োগের কথা শুনলে
অনেকে হেসে উড়িয়ে দেন। কিন্তু সত্যি বলতে, এই বয়সে ছোট একটা সিদ্ধান্তই
আপনাকে সমবয়সীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখতে পারে। টাকা জমাতে বিশাল কোন
উপার্জনের প্রয়োজন নেই। মাসের শুরুতে পকেট মানি থেকে ছোট একটা অংশ, ধরা যাক ২০০
বা ৫০০ টাকা আলাদা করে সরিয়ে রাখুন।
বন্ধুদের সাথে প্রতিদিন দামি ক্যাফেতে না গিয়ে সপ্তাহে একদিন যান। অপ্রয়োজনীয়
সাবস্ক্রিপশন কিংবা হুটহাট কেনাকাটার অভ্যাসে সামান্য কিছু কম করলেই দেখবেন মাস
শেষে অনেকগুলো টাকা বেঁচে গেছে। এবার আসা যাক বিনিয়োগের কথায়। জমানো এই অল্প
টাকা জমানোর ব্যাংকের ফেলে না রেখে কাজে লাগান। বর্তমান নিয়ে মাত্র টাকা থেকে
মোবাইল ব্যাংকিং এ জিপিএস কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা সম্ভব।
ছাত্র বলেই কি পকেট খালি থাকবে?
ছাত্র বলে পকেট খালি থাকবে? পাল্টে ফেলুন চেনা হিসাব! ছাত্র জীবনে এই চেনা
ছবিটাতে আমরা সবাই কমবেশি অভ্যস্ত। কিন্তু একটু ভেবে দেখছেন কি? কেন প্রতিমাসে
একই ঘটনা পুনরাবৃত্তিক ঘটে? ছাত্র মানে কি সব সময় টানাটানি সংসার চলবে? একদমই
না! সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে ফেললে কিন্তু পরেও পকেট গরম রাখা সম্ভব। প্রথম কাজ
হল অপ্রয়োজনীয় ফাঁক গলে যাওয়া টাকাগুলো আটকানো। প্রতিদিনের আড্ডা ফাস্টফুড আর
হুটহাট অনলাইনে কেনাকাটা এইসব দেখতে দেখতে ছোট মনের হলেও মাস শেষে বড় ধাক্কা
দেয়।
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়. মাস শুরু দিনেই পকেট
মানি থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ চোখের আড়ালে সরিয়ে রাখুন। ধরে নিন ওই টাকাটা
আপনার কাছে নেই। তবে কেবল টাকার জমিয়ে বসে থাকলে চলবে না। সেই টাকাকে কাজে
লাগাতে হবে। পড়ার পাশাপাশি নিজের পছন্দের বিষয়ে ছোটখাটো কোন স্কিল শিখে নিন।
যেমন টিউটোরিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং বা ডাটা এন্ট্রি। আজ কাল ঘরে
বসেই ফ্রিল্যান্সিং করে পকেট মানির চেয়েও ভালো আয় করা সম্ভব।
পকেটমানি বাঁচিয়ে ভবিষ্যতের ফান্ড গড়ুন!
মাসে বন্ধুদের আড্ডা কিংবা পছন্দের কেনাকাটার পর যখন পকেটের টান পড়ে, তখন মনে
হয় ইস! যদি আগে থেকে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতাম। ছাত্র জীবনের বিশাল কোন ইনকাম
থাকে না সত্যি, তবে প্রতিদিনের ছোট্ট হাত খরচ বা পকেট মানি থেকে কিন্তু ভবিষ্যতের
জন্য একটা বড় ফান্ড গড়ে তোলা সম্ভব। পকেট মানি জমানোর মূল মন্ত্র হল আগে
সঞ্চয়, পরে খরচ।
অর্থাৎ মাস বা সপ্তাহের শুরুতে টাকা হাতে পাওয়ার পরে একটা নির্দিষ্ট অংশ,
হোক হোক সেটা ১০০ বা ২০০ টাকা আলাদা করে সরিয়ে রাখুন। প্রতিদিন বাহিরে কেনাকাটা
বা ফাস্টফুড এর যে অপ্রয়োজনীয় টাকাগুলো অজান্তেই খসে যায়, সেখানে একটু লাগাম
টানলে মাস শেষে বেশ ভালো একটা অংক জমে যাবে। এই জমানো টাকা শুধু মানিব্যাগে রেখে
দিলে তা খরচের পথ খুঁজে নেবে। তাই বুদ্ধিমানের মত এই টাকা কোন ডিজিটাল ডিপিএস বা
ছোট সঞ্চয় ফান্ডে ঘাট...
জমানো টাকায় ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন পূরণ করুন।
আমাদের সবার বুকে কোনো না কোনো বড় স্বপ্ন থাকে। কেউ হয়তো নিজের একটি সুন্দর
বাড়ি চান, কেউবা চান্স উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে যেত্ আবার কারো স্বপ্ন নিজের
ছোট একটি ব্যবসা দাঁড় করানো।। কিন্তু বড় স্বপ্নের কথা ভাবলেই প্রথমে মাথায়
আসে, এত টাকা কোথায় পাবো? সত্যি বলতে, আপনার এই চিন্তার সমাধান লুকিয়ে আছে
প্রতিদিনের ছোট ছোট সঞ্চয়ের মাঝেই। জল দিয়ে যেমন মহাসাগর তৈরি হয় ।
তেমনি প্রতিদিনের সামান্য জমানোর টাকা একদিন আপনার বড় স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি
হয়ে উঠতে পারে। আমরা অনেক সময় ছোট ছোট খরচ গুলোই গুরুত্ব দিনা। অথচ
প্রতিদিনের অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে মাত্র ৫০ বা ১০০ টাকা বাঁচিয়ে আলাদা করে
রাখলে, মাস শেষে বা বছর শেষে তা বিশাল এক ফান্ডে পরিণত হয়। স্বপ্ন কখনোই
রাতারাতি পূরণ হয় না। আজ থেকে আপনার অহেতুক খরচ গুলো কমিয়ে সঞ্চয়ের অভ্যাস
গড়ে তুলুন।
আজই অপ্রয়োজনীয় ছোটখাটো খরচ কমান!
আমাদের জীবনে অর্থাৎ অর্থাভাবের কারন কিন্তু সব সময় কম আয় নয়, বরং বেশিরভাগ
সময়ই তা হলো চোখ এড়িয়ে যাওয়া ছোটখাটো অহেতুক খরচ। প্রতিদিন সকালে হুটহাট
ক্যাফেতে কফি খাওয়া, কাজের ফাঁকে ফাস্টফু্ কিংবা কেনাকাটার পর খোঁজটা টাকা
হেলায় উড়িয়ে দেওয়া। এইসব দেখতে খুব সামান্য মনে হলেও, মাস শেষে এই হিসাবটাই
এক বিশাল অংকের ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আর্থিক টানাটানি থেকে মুক্তি পেতে আজি
এই অপ্রয়োজনীয় খরচ গুলো লাগাম টানুন।
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়. সপ্তাহের শুরুতে একটি সহজ
বাজেট তৈরি করে ফেলুন এবং প্রতিদিন কোথায় কত টাকা যাচ্ছে তা একটি ডায়েরিতে বা
ফোনে নোটপ্যাড লিখে রাখার অভ্যাস কর... প্রতিদিনের কেনাকাটা আবেগ নয়, বরং
আপনার কোনটা সত্যি প্রয়োজন আর কোনটা কেবল সাময়িক ইচ্ছা এর পার্থক্য টুকু
বুঝতে শিখুন। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো মানে কৃপণতা নয়, বরং এটা হলো নিজের আয়ের
প্রতি সম্মান দেখানো।
ছাত্রবয়সেই তৈরি করুন জরুরি আপদকালীন ফান্ড!
জীবন সবসময় এক নিয়মে চলেনা। হঠাৎ ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পরীক্ষার জরুরী ফি
দেওয়্ কিংবা অপ্রত্যাশিত কোন শারীরিক অসুস্থতা, ছাত্রজীবনেই যেকোনো সময় ছোট
বড় আর্থিক সংকটের সামনে এসে দাঁড়াতে পারে। পরিস্থিতিতে হঠাৎ পরিবারের কাছে বড়
অংকের টাকা চাওয়া অনেক সময় কষ্টের বা অস্বস্তির কারণ হয়। আর ঠিক এই সমস্যাই
একমাত্র স্মার্ট সমাধান হলো একটি জরুরী আপৎকালীন ফান্ড বা ইমার্জেন্সি ফান্ড।
জরুরী ফান্ড গড়ে তুলতে বিশাল অংকের উপার্জনের প্রয়োজন নেই।
প্রতিমাসে পকেট মানে কিংবা টিউশনি আয় থেকে খুব সামান্য কিছু টাকা ধরা যাক ৩০০
বা ৫০০ টাকা, একটি নির্দিষ্ট পাত্রে বা আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা শুরু
করুন। এর ফার্মটি এমন ভাবে তৈরি করবেন যেন কোন আকস্মিক প্রয়োজন ছাড়া এটি
স্পর্শ না হয় । আপনাকে যে কোন অনিশ্চয়তার মানসিকভাবে নিশ্চিন্ত করবে। হঠাৎ
তৈরি হওয়া সংকট সমাধান করতে গিয়ে বন্ধুদের কাছে হাত পাততে হবে না কিংবা
পড়ালেখায় ক্ষতি হবে না। ছাত্র অবস্থাতেই নিজের দায়িত্ব নিজের নেওয়ার এক
আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন।
পকেটমানির সঠিক ব্যবহারে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন!
ছাত্রজীবনের বাবা অভিভাবকের কাছে থেকে পাওয়া পকেট মানি কেবলই প্রতিদিনের ছোটখাটো
খরচের মাধ্যমে নয়। এটি হতে পারে আপনার স্বাবলম্বী হওয়ার প্রথম পাঠ। সঠিক
পরিকল্পনা আর সদিচ্ছা থাকলে এই সীমিত পকেট মানে ব্যবহার করে তৈরি করে নেওয়া
সম্ভব নিজের একটি মজবুত আর্থিক ভিত্তই। প্রথমেই আপনার হাত খরচের টাকাকে তিন ভাগে
ভাগ করে ফেলুন। জরুরি প্রয়োজনে, সঞ্চয় এবং নিজের উপর বিনিয়োগ। মাস বা সপ্তাহের
শুরুতে টাকা পাওয়ার পর পরে ১০ থেকে ২০ শতাংশ টাকা না ছুঁয়ে আলাদা জমিয়ে
রাখুন।
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়। বাহিরের অপ্রয়োজনীয়
আড্ডা ও অহেতুক কেনাকাটার খরচ কমিয়ে সেই জমানো টাকা কাজে লাগান। এই সঞ্চিত
অর্থ দিয়ে কোন ভালো স্কিল শিখুন, যেমন ডিজিটাল মার্কেটি্ কন্টেন রাইটিং,
ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক্স ডিজাইন। অনলাইন বা অফলাইনে ছোট ছোট কোর্স আপনার
শেখার পরিধি বাড়াবে। পরবর্তীতে এই অর্জিত দক্ষতা ব্যবহার করে পড়ালেখার
পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং বা পার্ট টাইম কাজ শুরু করা যায়, যা আপনাকে দিবে
নিজস্ব উপার্জন।
পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম আয় শুরু করুন!
ছাত্র জীবনে কেবল বউয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম
আয় করা এখন সময়ের সেরা সিদ্ধান্ত। এতে যেমন নিজের হাত খরচের জন্য পরিবারের উপর
নির্ভর করতে হয় না, তেমনি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
পড়াশোনার সামলে পার্ট টাইম কাজ শুরু করা অনেকগুলো দারুন সুযোগ রয়েছে। আপনি
আপনার মেধা অনুযায়ী পছন্দ মত ছোট টিউশনি বেছে নিতে পারেন, ডিজিটাল মার্কেটিং এর
মত কাজের মাধ্যমে অনলাইন থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।
ছবিতো না বা ভিডিও এডিটিং ভালো জানা থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন
ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করা যায়। তবে সব সময় খেয়াল রাখবেন, কাজের কারনে যেন
মূল পড়াশোনা ও ফলাফলের কোন ক্ষতি না হয়। দিনে একটি নির্দিষ্ট সময়, ধরা যাক
দুই থেকে তিন ঘন্টা কাজ বা টিউশনের জন্য বরাদ্দ রাখুন এবং বাকি সময় পড়াশোনায়
মনোযোগ দিন। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়া এই অভ্যাস আপনার মধ্যে
আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে এবং ক্যারিয়ার শুরুর আগে আপনাকে কাজের অভিজ্ঞতা এনে
দেবে
উপার্জনের আগেই শেখা উচিত সঞ্চয়ের কৌশল!
অনেকে মনে করেন্ আগে বিপুল টাকা উপার্জন শুরু হোক তারপর সঞ্চয়ের কথা ভাবা যাবে।
কিন্তু সত্যি বলতে, সঞ্চয় হলো একটি মানসিক অভ্যাস্ যা আয়ের পরিমাণের ওপর নয়।,
বরং আপনার মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। উপার্জনের মাঠে নামার আগে যদি সঞ্চয় সঠিক
কৌশল জানা না থাকে, তবে লাখ টাকা আয় করেও মাস শেষে পকেট খালি হয়ে যাবে।
উপার্জনের আগেই সঞ্চয় শেখার প্রথম কৌশল হল, আগে সঞ্চয় পরে ব্যয়। অর্থাৎ যে কোন
অর্থ হাতে পাওয়া মাত্রই একটি নির্দিষ্ট অংশ আগে সরিয়ে রাখতে হবে।
এছাড়া প্রয়োজন ও বিলাসবহুল ফারাক বুঝতে শেখাও সঞ্চয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি ধাপ। ছাত্র জীবনে বাপ বেকার অবস্থায় পকেট মানি সামান্য অংশ বাঁচানো চর্চা
যে শৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে বড় আয়ের সময়ও অপ্রয়োজনীয় খরচ আটকাতে
সাহায্য করে। যে ব্যাক্তি অল্প টাকা সামলাতে পারে না, সে বড় অংকের টাকা পেলে
তা ধরে রাখতেও পারবে না। তাই কর্মজীবনে পা দেওয়ার আগে বাজেট তৈরি করুন। ছোটখাট
অহেতুক খরচ কমান এবং সঞ্চয়ের মানসিকতা করে তুলুন।
ছাত্র অবস্থায় শেখা সঞ্চয়ই আসল সম্পদ!
ছাত্র জীবন কেবল পরীক্ষা আর ডিগ্রির পেছনের ছটার সময় নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবন
সুন্দরভাবে গড়ে তোলার অন্যতম সেরা ভিত্তি প্রস্তর। এই বয়সে অর্জিত যে কোন ভালো
অভ্যাস সারা জীবন আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকে। আর তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও
কার্যকর অভ্যাসটি হলো, সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা। তাই বলা হয়ে থাকে, ছাত্র
অবস্থায় শেখার সঞ্চয়ের এই অভ্যাসে একজন মানুষের সম্পদ। অনেকে মনে করেন, হাত
খরচের অল্প টাকা দিয়ে আবার কি সঞ্চয় হবে? কিন্তু আসল বিষয় হল টাকার পরিমান
নয়, বরং সঞ্চয় করার নিয়ম ও তো অভ্যাসটা গড়ে তোলা।
ছাত্রাবস্তায় যখন কেউ পকেট মানি বা টিউশনে আয় থেকে সামান্য কিছু
টাকাবাঁচিয়ে জমায়। তখন সে টাকার সঠিক ব্যবহার শেখে। এতে করে অপ্রয়োজনীয়
খরচের লাগাম টানা, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং হিসাব করে চলার মত বড় বড়
গুণগুলো অশান্তির তৈরি হয়ে যায়। বয়স সাথে জীবনের দায়িত্ব খরচ দুটোই বাড়ে।
কিন্তু তরুণ বয়সের যার সঞ্চয় এর অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়, সে পরবর্তীতে বড়
অঙ্কের আয় করেও তার সঠিক জায়গায় কাজে লাগাতে পারে।
জমানো টাকা দিয়ে প্রথম ডিপিএস খুলুন!
আমরা অনেকে অল্প অল্প করে কিছু টাকা জমায়। কিন্তু জমানো টাকার যদি কেবল মাটির
ব্যাংকের বা মানে বেগে অলস পড়ে থাকে, তবে সময়ের সাথে সাথে তার কোন মূল্য বৃদ্ধি
হয় না। ঘরের কোনে রাখা এই টাকা খুব সহজে আবার বাজে খরচে বের হয়ে যায়। তাই
নিজের জমানো ছোট ছোট সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখতে এবং বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে আপনার
প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে একটি ডিপিএস বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা। অনেকেরই ধারণা,
ডিপিএস খুললে হয়তো অনেক বড় অংকের টাকা কিংবা স্থায়ী আয়ের প্রয়োজন হয়।
তবে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক এবং বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং
ফ্লাট ফরম গুলোতে মাত্র ১০০ ,২০্০, বা ৫০০ টাকা দিয়েও প্রতিমাসের ডিপিএস চালু
করা সম্ভব। ছাত্র জীবন বা ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের জমানোর টাকা দিয়ে প্রথম
ডিপিএসটি খুলে আপনার ভিতরে একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। এই জমানো অর্থ দিয়ে
ভবিষ্যতে কোন জরুরি প্রয়োজন মেটানো বা বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা খুব
সহজেই করা যায়।
শেষ কথাঃ ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করার উপায়
ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করা কেবল পকেটে কিছু বাড়তি টাকা রাখা
নয়, এটি হলো ভবিষ্যৎ জীবনকে স্বাধীন ও দুশ্চিন্তা মুক্ত করার এক মাস্টার
প্ল্যান। পড়াশোনার এই সোনালী দিনগুলোতে গড়ে তোলা ছোট ছোট অভ্যাসে পরবর্তীতে
আপনার একজন দায়িত্বশীল ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। টাকা জমানোর জন্য
বিপুল অঙ্কের উপার্জনের কোন প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোটখাটো বাজে খরচ কমানো,
পকেট মানে সঠিক ব্যবহার এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে মেধা দিয়ে পার্ট টাইম বা
ফ্রিল্যান্সিং থেকে টাকা আয় করা হতে পারে আপনার প্রথম ধাপ।
এরপর জমানো সে টাকা দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর ছোট একটি ডিপিএস খোলা কিংবা নিজের
উপর বিনিয়োগ করে নতুন কোন স্কিন শেখায় হল সত্যিকারের বুদ্ধিমানের কাজ। কে
যেকোনো জরুরী সংকটে আপনার সবচেয়ে বড় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে। অন্যের উপর নির্ভরশীল
না হয়ে নিজের শক্তির উপর দাঁড়ানোর আনন্দই আলাদা।, তাই দেরি না করে আজ থেকেই
শুরু হোক আপনার টাকা জমানো ও স্মার্ট বিনিয়োগের এই দারুন যাত্রা।



রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url