শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা

আজকাল অলসতা, ক্লান্তি আর সারাদিন বসে কাজ করার কারণে আমাদের শরীর যেন দিন দিন জং ধরা তালার মত হয়ে যাচ্ছে। একটু হাঁটলে হাপিয়ে উঠে, সিড়ি দিয়ে উঠতে গেলে পায়ের পেশীতে টান লাগা কিংবা সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব এই সমস্যাগুলোর সমাধান কিন্তু কোন দামি ওষুধের ট্যাবলেটের নেই। এর আসল সমাধান লুকিয়ে আছে শারীরিক শক্তির বৃদ্ধির ব্যায়াম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এর মাঝে। শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম মানেই বোধ হয় শুধু বডি বিল্ডারদের মত বিশাল পেশী তৈরি করা।  
কিন্তু ধারণাটি একদম ভুল! সাধারণ মানুষের ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো আপনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা আসল এনার্জি বা শক্তিকে জাগিয়ে তোলার বৈজ্ঞানিক উপায়। নিয়মিত অল্প কিছু নিয়ম মেনে এই ব্যায়াম করলে শুধু আপনার শরীর সুগঠিত আর আকর্ষণীয় হবে না। বরং আপনার হার মজবুত হবে, এটা মেটাবলিজম বাড়বে এবং মন থাকবে সবসময় চাঙ্গা ও ফুরফুরে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা। সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের আসল চাবিকাঠি হল শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রেন্থ ট্রেনিং নামে পরিচিত। অনেকেই ভাবেন এই ব্যায়াম শুধু বডি বিল্ডারদের জন্য, কিন্তু বাস্তবে নিজেকে ফিট ও এনার্জি রাখতে সাধারণ মানুষের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি জরুরি। নিয়মিত পুশ আপ, স্কোয়াট বা হালকা ওজন তোলার মত ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরে পেশি ও হাড় ভেতর থেকেস মজবুত হয়।

এর সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এটি শরীরের মেটাবলিজম বা হজম শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় ফলে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ কমে যায়। আমাদের বয়স ৩০ পার হলে প্রতিবছর শরীর থেকে বেশি ভর কমতে শুরু করে এবং হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। নিয়মিত শক্তির বৃদ্ধির ব্যায়াম করলে হাড়ের ভেতর ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়ে এবং বেশিগুলো শক্তিশালী হয়।এর ফলে বার্ধক্য ও বাতের ব্যথার জয়েন্ট ব্যথার সমস্যা ও কোমরের ব্যথার মতো রোগ ধানের কাছে আসতে পারে না।

পেশি মজবুত করতে স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের জাদুকরী ভূমিকা

আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের পেশীগুলো আস্তে আস্তে দুর্বল হতে শুরু করে। ফলে সামান্য কাজ করলেই শরীর ক্লান্ত লাগে, হাত পায়ের জোর পাওয়া যায় না। অনেকেই ভাবেন স্ট্রেন্থ ট্রেনিং মানে শুধু জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা আসলে তা নয়! নিজে শরীরের ওজন ব্যবহার করে পুষ আপ, স্কোয়াট কিংবা সাধারণ ডাম্বেল দিয়ে ঘরে বসে এই ব্যায়াম করা সম্ভত। নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলে পেশির ভিতরে তন্ত বা ফাইবার গুলো শক্তিশালী হয় এবং বেশি ভর বাড়ে। .

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা। এর আসল জাদুটা টের পাবেন দৈনন্দিন জীবনে।এটি আপনার শরীরের শক্তিকে এমন ভাবে বাড়িয়ে দেবে যে, ভারী বাজার তোলা ,সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা বা দীর্ঘক্ষণ সোজা হয়ে বসে থাকা মোট কাজগুলো আপনার কাছে একদম পানির মত সহজ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, শক্তিশালী পেশি আপনার জয়েন ও গিটগুলোকে সুরক্ষিত রাখে। যার ফলে বাতের ব্যথা এবং মাংসপেশিতে টানের মত সমস্যার ধারের কাছেও দেখতে পারবেনা। 

সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের আসল গোপন মন্ত্র

আজকের এই ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে আমরা প্রযুক্তিগত ভাবে যতটা এগিয়ে যাচ্ছি, শারীরিকভাবে ঠিক ততটাই দুর্বল হয়ে পড়েছি। একটু সিঁড়ি দিয়ে উঠলে বুক ধরফর করে, সারাদিন অফিসে বসে কাজ করার পর পিট কোমরের তীব্র ব্যথা কিংবা সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ম্যাশ ম্যাশ করা। আমাদের অনেকেরই প্রতিদিনের একটি গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সবকিছুর পেছনের আসল কারণ হলো আমাদের মাংসপেশী এবং শরীরের ভেতরের শক্তির অভাব ।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা।এই ক্লান্তি আর অলসতা দূর করে শরীরের ভেতর থেকে চাঙ্গা করার একমাত্র শারীরিক শক্তির ব্যায়াম। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় স্ট্রেন্থ  ট্রেনিং। বিশেষ করে ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা দেখা যায়। শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের পেশীগুলো রক্ত থেকে খুব সহজে গ্লুকোজ  বা শর্করা শোষণ করতে পারে যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। এখন সাথে এটি শরীরের শক্তি ও সচল রাখে।

দ্রুত ও স্থায়ীভাবে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি কমায়

সুস্থ, সুন্দর ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরী। আর শক্তি বাড়ানোর প্রথম এবং প্রধান শর্ত হল শরীরের অতিরিক্ত ও ক্ষতিকর মেদ বা চর্বি দূর করা। অতিরিক্ত মেয়ের আমাদের অলস করে দেয় এবং স্ট্যামিনা কমিয়ে দেয়..হাই-ইনটেন্সিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং এর ফলে কম সময়ে দ্রুত চর্বি ঝরাতে এর কোন বিকল্প নেই। এটি এমন এক ধরনের ব্যায়াম যেখানে খুব দ্রুত গতিতে ব্যায়াম করা হয়.। যেমন, জাম্পিং জ্যাক, বারপিস করার পর সামান্য বিশ্রাম নেওয়া হয়. । এই ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ব্যায়াম শেষ করার পরও শরীরে অনেকক্ষণ ধরে ক্যালরি বার্ন হতে থাকে. ফলে শরীরের মেদ দ্রুত গলে যায় এবং বেশি শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায় ।.

স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা পুশ-আপ ও স্কোয়াট, এই ব্যায়ামগুলো করলে শরীরের খুব তাড়াতাড়ি মেদ ঝরে যায়। অনেকেই ভাবেন মেদ কমাতে শুধু দৌড়ানোর যথেষ্ট। কিন্তু স্থায়ীভাবে মেদ কমাতে এবং বেশি শক্তিশালী করতে, ওয়ার্ড স্কোয়াট, হালকা ওজন তলার মতো ব্যায়ামগুলো দারুন কাজ করে। শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা। যদি একদম সহজ কোন ব্যায়াম চান, তবে প্রতিদিন অন্তত ৩০থেকে ৩৫মিনিট দ্রুত হাঁটুন বা জগিং করুন। এটি আপনার হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে এবং পেটের ও অরূপ চর্বি দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।

পেশী ও হাড়কে লোহার মতো মজবুত করে

একটি শক্তিশালী ও কর্মক্ষম শরীর সবারই কাম্য। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে বা সঠিক যত্নের অভাবে আমাদের হাত ও বেশি দুর্বল হতে শুরু হয়। যদি আপনি চান আপনার পেশী এবং হাড় লোহার মতো শক্ত ও মজবুত হোক, যাতে যেকোনো পরিশ্রমে কাজ আপনি অনায়াসে পড়তে পারেন, তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী। হাড় ও পেশীকে মজবুত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন শরীরের হালকা চাপ সৃষ্টি করে ব্যায়াম করা উচিত। এর জন্য পুশ আপ ,স্কোয়াট বা হালকা ডাম্বেল নিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন। 
শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিত।.যখন আপনি পেশির ওপর চাপ দেন, তখন পেশিগুলো ভেঙ্গে আবার নতুন করে আরো শক্তিশালী হয়ে গঠিত হয়। ঠিক একই ভাবে এই ব্যায়ামগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয় ফলে হার সহজে ফ্র্যাকচার বা ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে না। হাড়ের প্রধান হল ক্যালসিয়াম। কিন্তু শরীরে ভিটামিন ডি ছাড়া ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না।  পেশীগঠন মূল উপাদান হলো প্রোটিন। ব্যায়াম করার পর পেশী যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা পূরণ করে পেশীকে আরও বড় শক্তিশালী করতে প্রোটিন সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারে দেশী মুরগির মাংস ,ডাল ,মাছ, বাদাম বা ছোলা রাখার চেষ্টা করবেন।

সারাদিন এনার্জিটিক ও ফুরফুরে থাকার সেরা কৌশল

সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পরেই শরীর কেমন যেন ম্যাজমেজ করে? দুপুরে একটু ভারী খাওয়ার পর চোখ ভেঙ্গে ঘুম আসে? আর বিকালের দিকে তো এনার্জি একদমই জিরো হয়ে যায়! আমাদের অনেকে প্রতিদিনের চেনা গল্প। অথচ সামান্য কিছু অভ্যাস বদলে ফেললে কিন্তু সারাদিন চিলড্রেন বা বাচ্চাদের মতো চটপটে আর ফুরফুরে থাকা সম্ভব। সারাদিন চাঙ্গা থাকার আসল মন্ত্র কিন্তু কোন দামি এনার্জি ড্রিংকে নাই। এটি লুকিয়ে আছে আপনার লাইফস্টাইল এর মাঝে।

ঘুম থেকে উঠেই চা বা কফির কাপে চুমুক না দিয়ে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। রাতে দীর্ঘক্ষণ ঘুমানোর ফলে শরীরের যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা দ্রুত করে ক্যাফে এনের চেয়েও দ্রুত আপনার মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করে তুলবে এই এক গ্লাস পানি। সকাল অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটুন। এবং হালকা ব্যায়াম করুন।. বাইরের তাজা বাতাস আর সকালের রোদ আপনার শরীরে সেরোটোনিন নামক হরমোন বাড়ায়, যা নিমিষেই মনকে ফুরফুরে করে তোলে। সারাদিন কাজের ফাঁকে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এটি আপনার এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করবে।

রোগমুক্ত সুস্থ জীবনের আসল প্রতিষেধক হলো ব্যায়াম

একটুখানি আবহাওয়ার পরিবর্তন হলেই কি আপনার সর্দি কাশি লেগে যায়? সামান্য পরিশ্রমে শরীর কি দুর্বল হয়ে পড়ে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবে বুঝতে হবে আপনার শরীরের ভেতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের শরীরকে বাইরের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস আর রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে শরীরের ভেতরে একটি অদৃশ্য দেয়াল বা ঢোল থাকে, যাকে আমরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বলি। আর এই ঢালকে লোহার মতো মজবুত করার সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। 

অনেকে ভাবেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শুধু দামি দামি ভিটামিন ট্যাবলেট বা ফলমূল খাওয়ায় যথেষ্ট। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আপনার যতই পোস্টকর খাবার খান না কেন শরীর না থাকে তবে সেই পুষ্টি পুরোপুরি কাজে লাগবে না। সুস্থ থাকার কোন কাল্পনিক বিষয় নয়। এটি আপনার প্রতিদিনের অভ্যাসের ফল। তাই কোন দামি ওষুধের উপর নির্ভর না করে আজই দিনে অন্তত ২০ থেকে৩০ মিনিট হাঁটুন, দৌড়ান কিংবা হালকা ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করার সময় আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন বা ব্লাড সার্কুলেশন দ্রুত হয়। শরীর এর ফলে, রোগ জীবাণু বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। অর্থা  কর্মক্ষমতা বাড়াতেই আজি ব্যায়াম শুরু করুন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প নেই 

রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়? মাঝরাতে হঠাৎ যাওয়ার পর আর কোনোভাবে চোখ বন্ধ হতে চাই না? সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর কেমন যেন ক্লান্ত আর অবসাদগ্রস্ত লাগে? আজকাল অনিন্দা বা ঘুমের সমস্যা আমাদের অনেকেরই রাতে ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আর এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক এবং বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে নিয়মিত স্ট্রেন্থট্রেনিং বা শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়ামের মাঝে। 

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা।অনেকেই মনে করেন, ভাল ঘুমের জন্য হয়তো শুধু শান্ত পরিবেশ বা নরম বিছানায় যথেষ্ট। কিন্তু আসল সত্য হলো শরীর যতক্ষণ না ভেতর থেকে পুরোপুরি ক্লান্ত হচ্ছে ততক্ষণ মস্তিষ্ক গভীর ঘুমের সংকেত পায় না। আমাদের ঘুমানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি হরমোন হলো মেলাটোনিন। নিয়মিত পুশ আপ, কোয়াট বা হালকা ওজন তোলার মত স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলে শরীরে এই হরমোন উৎপাদন বহু গুনে বেড়ে যায়। যা রাতের বিছানায় যাওয়ার সাথে সাথে চোখের পাতা গভীর ঘুমে নেমে আসে।

মেটাবলিজম বাড়িয়ে স্থায়ীভাবে ওজন কমানোর সেরা উপায়

ওজন কমানোর কথা শুনলে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কোন ঘন্টার পর ঘন্টা না খেয়ে থাকা কিংবা শুধু সালাত খেয়ে দিন পার করা। কিন্তু আপনি জানেন কি? এভাবে সাময়িকভাবে হয়তো কিছুটা ওজন কমে, কিন্তু খাওয়া শুরু করলেই তার দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে? স্থায়ীভাবে ওজন কমাতে চাইলে আসল চাবিকাঠি হল আপনার শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে তোলা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মেটাবলিজম হলো আপনার শরীরের ভেতরে সেই ইঞ্জিন যা আপনার খাওয়ার খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে এবং চর্বি পুড়িয়ে ফেলে।
এই ইঞ্জিন যত ফাস্ট হবে আপনার ওজন তত দ্রুত কমবে। মেটাবলিজম বাড়ানোর সবচেয়ে সেরা অস্ত্র হল স্ট্রেন্থট্রেনিং। নিয়মিত পুশ আপ, স্কোয়াট বা হালকা ওজন তুললে শরীরের বেশি ভর বাড়ে। খাবারে ডিম মুরগির মাংস মাছ ডাল বা বাদামের মত প্রোটিন রাখুন। প্রোটিন হজম করতে শরীরের অন্য খাবারের চেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। গবেষণায় দেখা গেছে আধা লিটার পানি পান করলে পরবর্তী এক ঘণ্টা মেটাবলিজম প্রায় ৩০% বেড়ে যায়।

জয়েন্টর ব্যাথা দূর করতে কার্যকরী শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম ও তার উপকারিতা।বয়স বাড়লে কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা বা ঘাড়ের ব্যথায় সমস্যায় ভোগের নিয়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেকেই ভাবেন, জয়েন বা গিটে ব্যথা হলে বোধহয় শুধু শুয়ে বসে বিশ্রাম নিতে হয়। এবং নড়াচড়া একদম বন্ধ করে দিতে হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে পৌঁছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা! কে চিরতরে বিদায় জানানোর সবচেয়ে কার্যকরী এবং প্রাকৃতিক উপায় হল নিয়মিত শক্তি বৃদ্ধির ব্যাম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং। আমাদের জয়েন্ট বা হাড়ের জোড়াগুলোকে চারপাশ থেকে শক্ত করে ধরে রাখে মাংসপেশি।

যখন এর বেশি গুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শরীরে পুরো ওজন আর চাপের চাপটা গিয়ে পরে সরাসরি জয়েন্টের ওপর। এর ফলে শুরু হয় তীব্র ব্যথা। আপনি যখন নিয়মিত হালকা করে ব্যায়াম করা শুরু করবেন এবং নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করবেন, তখন জয়েন্টের চারপাশের পেশিগুলো লোহার মতো মজবুত হয়ে উঠবে। বেশি শক্তিশালী হলে তা জয়েন্ট এর ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ নিজের কাঁধে তুলে নেয়, ফলে ব্যথার নিমিষে কমে আসে।

খাবারের পুষ্টি শরীরের সঠিকভাবে শোষণের আধুনিক উপায়

অনেকেই শরীর ফিট জন্য প্রতিদিন দামি দামি ফলমূল খাই, দুধ,ডিম বা পুষ্টিকর খাবার খায়। কিন্তু এত সব পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও কি শরীর দুর্বল লাগে? অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন বা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন? এর আসল কারণ হলো আপনি যা খাচ্ছেন, আপনার শরীরে একটা পুষ্টি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারছে না।, বিজ্ঞান বলছে শুধু পুষ্টিকর খাবার খাওয়ায় শেষ কথা নয় । সেই পুষ্টি যেন শরীরের সঠিকভাবে কাজে লাগে সেই উপায়গুলো জানাও সমান জরুরী।

আমাদের হজম প্রথম ধাপ শুরু হয় মুখ থেকে।, খাবার যত বেশি চিবিয়ে খাবেন মুখ থেকে তত বেশি এনজাইম বা লালা নিঃসৃত হবে। যা পাকস্থলীতে গিয়ে খাবার যেমন পুষ্টির উপাদান গুলোকে খুব সহজে আলাদা করতে সাহায্য করবে। যেমন আয়রন ক্যালসিয়াম । পুষ্টির অভাব দূর করতে গুচ্ছ গুচ্ছ ভিটামিন আর সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু খাবার খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানা।

শেষ কথাঃ শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি ব্যায়াম ও তার  ও উপকারিতা

এতক্ষণ আমরা জানলাম কিভাবে শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যাম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং আমাদের শরীর ও মনকে বলতে পারে। সুস্থ ও রোগমুক্ত এবং দীর্ঘ জীবন কোন কাল্পনিক বা স্বপ্নের বিষয় নয়। বরং এটি আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট সঠিক সিদ্ধান্তের ফল। আমরা অনেকেই ভাবি, আগামীকাল থেকে ব্যায়াম শুরু করব। কিন্তু অলসতার কারণে সেই আগামীকাল আর কখনোই আসে না। এভাবে অবহেলা করতে করতে একদিন শরীরের নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পরে। আমাদের শরীরটা একটা দামি গাড়ির মত। 

গাড়ি যেমন গ্যারেজে ফেলে রাখলে জং ধরে নষ্ট হয়ে যায়, আমাদের শরীরও ঠিক তেমনি সচল না রাখলে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করার জন্য আপনাকে বিশাল বডি বিল্ডার হতে হবে না। কিংবা জিমের পেছনে হাজার হাজার টাকাও খরচ করতে হবে না। আপনি যদি ঘরে বসে প্রতিদিন ইস ২০ থেকে ৩০  মিনিট নিজের শরীরের ওজনকে ব্যবহার করে ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করেন, তবে আপনার  পেশী হাড় এবং ইমিউনিটি সিস্টেম লোহার মতো মজবুত হয়ে উঠবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রান্না ও গল্পকথার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url